ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি সংকটের সমাধানে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগকে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে একটি বিশ্লেষণে। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাত চললেও সামরিক চাপ ইরানকে নীতিগত অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।
বিশ্লেষণে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য পারমাণবিক কর্মসূচির পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় স্বাভাবিক করা।
তবে লেখকের মতে, কেবল সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব নয়। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব মনে করে, যেকোনো ধরনের ছাড় দিলে ভবিষ্যতে আরও চাপ সৃষ্টি হবে। ফলে নতুন হামলা হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পরিবর্তে চাপ প্রয়োগের নীতিতে বেশি আস্থা রাখায় স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের চলমান আলোচনাকে এগিয়ে যেতে দেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প বলে মত দেওয়া হয়েছে।
লেখকের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম ও আগ্রহী। সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে নতুন নৌপথ, প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় আলোচনায় থাকতে পারে।
বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো সমঝোতা হলেও তা নাজুক থাকবে। যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক পরিস্থিতি দ্রুত ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। তবুও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনাই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
















