অ্যাডিলেড, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ – তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অ্যাডিলেডে প্রশ্নটি উঠেছে, কি এবার ভেঙে যাচ্ছে অ্যাশেজের দ্রুততম হারের রেকর্ড? মাত্র পাঁচ টেস্টের সিরিজের তৃতীয় ম্যাচের তৃতীয় দিনেই ইংল্যান্ড যেন হাল ছাড়তে বসেছে। শুরুতে যে অস্ট্রেলিয়াকে ‘বুড়োদের দল’ বলা হচ্ছিল, আজ সেই দল ইংল্যান্ডের জন্য এক পাহাড়ের মতো কঠিন।
পার্থে দুই দিনে, ব্রিসবেনে চার দিনে জয় তুলে নেওয়া অস্ট্রেলিয়া আজ তৃতীয় দিন শেষে ৩৫৬ রানের এগিয়ে। হাতে এখনো দ্বিতীয় ইনিংসের ৬ উইকেট। অ্যাডিলেডের মাঠে চতুর্থ ইনিংসে ৩০০ রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাস শেষবার ঘটেছিল ১২৩ বছর আগে। ইংল্যান্ড এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচের সিরিজে মাত্র একবার এই জুটি দেখেছে।
অ্যাশেজের মীমাংসা কি এই টেস্টেই হয়ে যাচ্ছে? তিনটি টেস্ট মিলিয়ে খেলা হয়েছে ৯ দিন। ধরে নেওয়া যাক, অস্ট্রেলিয়া আগামীকাল সকালের সেশনে দ্রুত ইনিংস ঘোষণা করল। তাহলে ইংল্যান্ড যতক্ষণ টিকে থাকবে, সেটিও সর্বোচ্চ ১১ দিনে সীমিত থাকবে। ২০০২-০৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম সিরিজ হারের রেকর্ডও ছিল ১১ দিন।
অ্যাডিলেডের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া করেছে ৩৭১ রান। ইংল্যান্ডের পাল্টা প্রতিরোধের আশা ছিল অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার জফরা আর্চারের ৯ম উইকেট জুটিতে। তৃতীয় দিনে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। সকালের সেশনে ১৮১ বলে ১০৬ রান জুটির মধ্যে স্টোকস করেছেন ৮৩, আর্চার ৫১। এটি ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ায় নবম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি হিসেবে রেকর্ডে ঢুকেছে।
ইংল্যান্ডের একমাত্র আশা ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে গুটিয়ে দেওয়া। কিন্তু উল্টো, অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৬৬ ওভারে তুলে ফেলেছে ৪ উইকেটে ২৭১ রান। ঘরের ছেলে ট্রাভিস হেড ১৪২ অপরাজিত, অন্য প্রান্তে অ্যালেক্স ক্যারি ৫২ অপরাজিত। হেড অ্যাডিলেডে টানা চার টেস্টে সেঞ্চুরি করে মাইকেল ক্লার্ক, স্টিভেন স্মিথ ও ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে কাতারে বসেছেন।
সাধারণ ক্রিকেটীয় হিসাব মতে, অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়। তবে দলের স্পিন কোচ জিতান প্যাটেল বলেন, “আমরা শুধু খেলার উপর মনোযোগ দেই, অন্য কিছু চিন্তা করি না। সকালেই উইকেট দরকার, চাপটা ফিরিয়ে দিতে হবে।”
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৩৭১ ও ২৭১/৪ (হেড ১৪২*, ক্যারি ৫২*, খাজা ৪০; টাং ২/৫৯, কার্স ১/৪৮, জ্যাকস ১/১০৭)
ইংল্যান্ড: ২৮৬ (স্টোকস ৮৩, আর্চার ৫১, ব্রুক ৪৫; কামিন্স ৩/৬৯, বোল্যান্ড ৩/৪৫, লায়ন ২/৭০)
অ্যাশেজের এই লড়াই, ২৩ বছর আগের রেকর্ডের ছায়ায়, ইংল্যান্ডের জন্য এক চরম পরীক্ষার রূপ নিয়েছে।















