ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত ৩৯ দিনের এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দল। তবে শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাই নয়, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণেও এবারের বিশ্বকাপ আলাদা হতে যাচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট সেন্সর, উন্নত অফসাইড প্রযুক্তি এবং এমনকি রোবট কুকুরও থাকবে এবারের বিশ্বকাপের আলোচনায়।
সেন্সরযুক্ত ম্যাচ বল
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল বলের নাম ‘ট্রিওন্ডা’। অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলে একটি বিশেষ আইএমইউ (Inertial Measurement Unit) সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে পারে।
এই প্রযুক্তি বলের অবস্থান, গতি ও দিক সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) সিস্টেমে পাঠাবে। ফলে অফসাইডসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।
এআই-নির্ভর থ্রিডি খেলোয়াড় অবতার
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়ের শরীর ডিজিটালি স্ক্যান করে থ্রিডি মডেল তৈরি করা হবে। মাত্র এক সেকেন্ডে সম্পন্ন হওয়া এই স্ক্যান খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধারণ করবে।
ফিফার মতে, এই এআই-ভিত্তিক থ্রিডি অবতার সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করবে। পাশাপাশি সম্প্রচারের সময় দর্শকরা অফসাইড সিদ্ধান্তের আরও বাস্তবসম্মত গ্রাফিক্স দেখতে পারবেন।
রেফারিদের বডি ক্যামেরাও প্রথমবারের মতো সব ম্যাচে ব্যবহার করা হবে, যা দর্শকদের মাঠের ভেতরের অভিজ্ঞতা আরও কাছ থেকে দেখাবে।
নিরাপত্তায় রোবট কুকুর
মেক্সিকোর মনতেরে অঞ্চলে বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে চার পা-ওয়ালা রোবট কুকুর।
এই যন্ত্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার করতে পারবে, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। কর্তৃপক্ষের মতে, এর মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে।
আরও উন্নত অফসাইড প্রযুক্তি
দেরিতে অফসাইড পতাকা তোলার কারণে খেলোয়াড় ও দর্শকদের যে হতাশা তৈরি হয়, তা কমাতে নতুন সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করবে ফিফা।
আগের প্রযুক্তি ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইড শনাক্ত করতে পারলেও নতুন সংস্করণ ১০ সেন্টিমিটারের ব্যবধানও শনাক্ত করতে সক্ষম। অফসাইড ধরা পড়লে রেফারির ইয়ারপিসে সরাসরি অডিও সংকেত পৌঁছে যাবে।
তবে এটি শুধুমাত্র অবস্থানগত অফসাইড শনাক্ত করতে পারবে; খেলোয়াড় খেলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সে ধরনের বিষয় এখনো মানব রেফারির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি
খেলোয়াড়দের সুস্থতার কথা বিবেচনা করে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি থাকবে।
ম্যাচের প্রায় ২২তম মিনিটের দিকে এই বিরতি নেওয়া হবে। আবহাওয়া বা তাপমাত্রা যাই হোক না কেন, নিয়মটি সব ম্যাচেই কার্যকর থাকবে।
ফিফার মতে, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















