আসন্ন বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেও প্রবেশের অনুমতি পাননি সোমালিয়ার শীর্ষ ফুটবল রেফারি ওমর আরতান। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তাকে দেশে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর পর ওমর আরতানকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে কী ধরনের উদ্বেগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার তালিকাভুক্ত ৫২ জন রেফারির একজন ছিলেন আরতান। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ পরিচালনা করলে তিনি প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে ইতিহাস গড়তেন।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণনীতি এবং বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রেক্ষাপটে বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সোমালিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপকে ঘিরে ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আগেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়েকটি দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীদের ক্ষেত্রেও ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত নানা সমস্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেছেন, অভিবাসীরা ফুটবল ও বিশ্বকাপ আয়োজনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
মার্কিন-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক একটি অধিকার সংগঠনও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে কাউকে প্রবেশে বাধা দেওয়া ন্যায়সংগত নয়, বিশেষ করে যখন তিনি একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে দায়িত্ব পালনের জন্য যাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদ, কোচ, কর্মকর্তা বা রেফারি হওয়ার বিষয়টি সীমান্তে প্রবেশসংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে আইন, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ওমর আরতান বলেছিলেন, নানা প্রতিকূলতা ও সংঘাতপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া তার জন্য ছিল বিরাট সম্মানের বিষয়। তিনি জানান, লক্ষ্য অর্জনের পথে কখনোই হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না।
















