একজন মানবাধিকারকর্মীর ওপর অ্যাসিড হামলার ঘটনায় চার সামরিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে একটি সামরিক আদালত। আদালতের রায় অনুযায়ী একজনকে তিন বছর, একজনকে আড়াই বছর, একজনকে দুই বছর এবং অপরজনকে দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনই সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ছিলেন। আদালত তাদের পরিকল্পিত গুরুতর হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ভুক্তভোগী একজন মানবাধিকার সংগঠনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তি, সহিংসতার শিকার মানুষ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছিলেন।
রাজধানীতে মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় দুই ব্যক্তি তার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। হামলায় তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান এবং মুখ ও শরীরের উল্লেখযোগ্য অংশ দগ্ধ হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, অভিযুক্তদের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হামলায় অংশ নিয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, মানবাধিকারকর্মীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েই তারা এই হামলা চালায়। তবে তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশে কাজ করেছে।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। জনরোষের মুখে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করেন, যদিও তার পদত্যাগের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, দেশে অধিকারকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রায়ই বিচার নিশ্চিত হয় না। ভুক্তভোগীও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন এবং স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আদালতের শুনানিতে অংশ নেননি।
আন্তর্জাতিক মহলেও এ হামলার তীব্র সমালোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে নৃশংস ও ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
















