প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের উড্ডয়ন লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘ ১৭ বছর শত শত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার মাসব্যাপী তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ৯০০-এর বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া নথি ব্যবহার করে বিমান সংস্থা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।
যদিও তার একটি বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স ছিল, তবে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের প্রধান চালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের লাইসেন্স প্রয়োজন, সেটি তার ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার, নকল চিহ্ন সংরক্ষণ এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনা জননিরাপত্তা এবং বিমান চলাচল ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কারণ অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক যাত্রী এমন একজনের পরিচালিত ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছেন যার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না।
তবে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা কোনো সময় ঝুঁকির মুখে পড়েনি। সংস্থার দাবি, সব পাইলটকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা মূল্যায়ন এবং বার্ষিক উড্ডয়ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অভিযুক্ত পাইলট এসব পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং বড় উড়োজাহাজ নিরাপদে পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন।
ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি স্বেচ্ছায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরবর্তীতে পরিচালিত নিরীক্ষায় অন্য কোনো পাইলটের ক্ষেত্রে একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা বলছেন, মূল উদ্বেগ প্রশিক্ষণের অভাব নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে লাইসেন্স যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা ধরা না পড়াই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















