জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির ক্রমবর্ধমান দায় পরিশোধের চাপে টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার আবারও বেড়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি ডলারের দর ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা, যা গত মঙ্গলবার বেড়ে প্রায় ১২৪ টাকা ২০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। ব্যাংকাররা বলছেন, মাসের শেষ দিকে জ্বালানি আমদানির জন্য ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ইস্টার্ন ব্যাংকে ডলারের স্পট বিক্রয়মূল্য রেকর্ড করা হয়েছে ১২৪ টাকা ১৮ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা। গত ১৫ অক্টোবর ব্যাংকটিতে ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দাম উভয় ক্ষেত্রেই ৪৩ পয়সা বেড়েছে।
একই দিনে সিটি ব্যাংক প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় কিনে ১২৪ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকে ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ১৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ১৩ পয়সা। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে ডলারের স্পট ক্রয়মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার বেড়ে গত মঙ্গলবার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন এই হার ছিল ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২৩ টাকা ৪৫ পয়সা।
ব্যাংকাররা আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় মেটাতে অধিক ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে মাসের শেষ ভাগে জ্বালানি আমদানির বিপরীতে সরকারি পর্যায়ে অর্থ পরিশোধের চাপ বাড়লে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। মাসের শেষ দিকে জ্বালানি আমদানির দায় পরিশোধে সরকারি পর্যায়ে অর্থের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং বিনিময় হারে সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, মাসের শুরুর দিকে প্রবাসী আয় তুলনামূলক বেশি এলেও শেষের দিকে তা কিছুটা কমে আসে। একই সময়ে আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সাময়িক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি কোনো সংকট নয় বলেই তিনি আশ্বস্ত করেন।


























