ঢাকার এক শান্ত ডিসেম্বরের সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টেডিয়ামে ভিন্ন এক দৃশ্যের জন্ম হয়। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ইউএস মেরিনস এবং বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা একসঙ্গে অংশ নেন একটি যৌথ শারীরিক সক্ষমতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিমূলক আয়োজনে। কেবল অনুশীলন নয়, এটি ছিল ঘাম, শ্বাস আর দৃঢ়তার ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা পারস্পরিক বিশ্বাসের এক নীরব উৎসব।
১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেরিন কর্পস কমব্যাট ফিটনেস টেস্ট। কঠোর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে ধাপে দুই দেশের সেনারা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ভাগ করে নেন পরিশ্রম, উৎসাহ আর সহযাত্রার অনুভূতি। মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দলগত কাজ, প্রস্তুতি আর পারস্পরিক সম্মানের স্পন্দন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সংযুক্তি দপ্তরের এক প্রতিনিধি বলেন, এই আয়োজন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রতিচ্ছবি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমে যে আস্থা ও দলগত শক্তি তৈরি হয়, সেটিই দুই দেশের যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা অঙ্গীকারের ভিত্তি।
এই যৌথ উদ্যোগ নতুন কিছু নয়, বরং এটি বহু বছরের সামরিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। যৌথ প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পেশাদার সামরিক শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, তারা ভবিষ্যতেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকারে অবিচল। এই যৌথ অনুশীলন যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও, আস্থা ও সহযোগিতার পথে হাঁটলে বন্ধুত্বের শক্তি আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
















