এটুআই ও ইউএনডিপি সেমিনারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল সেবাকে সম্পূর্ণ প্রবেশযোগ্য করতে পাঁচ বছরের রোডম্যাপ প্রস্তাব, যেখানে অ্যাক্সেসিবিলিটি অডিটের সুপারিশ করা হয়েছে
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী জোর দিয়ে বলেছেন, সারা দেশে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া সব নতুন ডিজিটাল সেবাকে সূচনা থেকেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশযোগ্য করতে হবে। সেমিনারে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেছেন, সরকার দ্রুতগতিতে সারা দেশে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করলেও প্রতিটি নতুন সেবাকে সূচনা থেকেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশযোগ্য করে তোলা এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, সেবা ডিজাইনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই প্রবেশযোগ্যতাকে বাধ্যতামূলক উপাদান হিসেবে যুক্ত করতে হবে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিডা অডিটোরিয়ামে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ইনোভেশন টু ইনক্লুশন ইন দ্য ডিজিটাল এইজ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাংলাদেশের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল সেবাসমূহকে সম্পূর্ণ প্রবেশযোগ্য করতে একটি সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ অতিথি সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো সাইদুর রহমান খান বলেন, প্রবেশযোগ্যতা মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তিনি মনে করিয়ে দেন, যারা প্রবেশযোগ্যতার অভাবে সহজ অনলাইন কাজগুলো নিজেরা সম্পন্ন করতে পারেন না, তারা প্রায়শই জনজীবন থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত মনে করেন।
অনুষ্ঠানে এটুআই ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ যৌথভাবে “ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণ: বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশযোগ্যতা উন্নয়ন” শীর্ষক নতুন এক গবেষণা ও পলিসি ব্রিফ উপস্থাপন করে। এই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বিস্তৃত ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এক হাজারের বেশি ই-সেবা চালু হলেও বহু প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য সেগুলো কার্যত অপ্রবেশযোগ্য রয়ে গেছে।
এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মো আব্দুর রফিক সমাপনী বক্তব্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যেখানে নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তিবিদ ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করবেন।
সেমিনারে উপস্থাপিত নীতি-প্রস্তাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করা হয়েছে। এই রোডম্যাপের প্রথম বছরে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করা, সব সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অ্যাক্সেসিবিলিটি অডিট করা এবং প্রতিবন্ধী নারী ও তরুণদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে জোর দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। পরবর্তী বছরগুলোতে সরকারি ভাতা কার্যক্রমে দূরবর্তী পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু, সহজে ব্যবহারযোগ্য ন্যাশনাল ডিজেবিলিটি হেল্পলাইন প্রতিষ্ঠা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার প্রবেশযোগ্যতা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্মত ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাক্ট প্রণয়ন এবং ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি মনিটরিং অথরিটি গঠনের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
















