সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের মাঝেই আবারও আলোচনায় এসেছে যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের দাপট। শনিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৯৬ রানের ইনিংস খেলে ২০২৫ সালে যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার জাওয়াদ আবরার। চলতি বছরে ২৪ ম্যাচে ২২ ইনিংসে ৪০.৪২ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৮৪৯ রান। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানেও আছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক আজিজুল হাকিমের রান ৮২৯, আর মিডল অর্ডারে রিজান হাসান করেছেন ৮১২ রান।
এই তিন ব্যাটসম্যানের সামনে সুযোগ রয়েছে এক পঞ্জিকাবর্ষে যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙার। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলা প্রায় নিশ্চিত, ফলে অন্তত তিনটি অতিরিক্ত ম্যাচ পাবে দলটি। ফাইনালে উঠলে ম্যাচ সংখ্যা আরও বাড়বে।
বর্তমানে এক বছরে যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি বাংলাদেশেরই। ২০১৯ সালে তাওহিদ হৃদয় ২০ ইনিংসে করেছিলেন ১০০১ রান। যুব ওয়ানডেতে এক বছরে হাজার রান করার একমাত্র নজির এটিই। ওই বছর ৯১৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। এর আগে ২০১৫ সালে ৮৯৫ রান করে রেকর্ড গড়েছিলেন নাজমুল হোসেন।
শুধু পঞ্জিকাবর্ষের রান নয়, যুব ওয়ানডের বহু ব্যক্তিগত রেকর্ডেই বাংলাদেশের আধিপত্য দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি রানের মালিক নাজমুল হোসেন, যিনি ৫৮ ম্যাচে ৫৭ ইনিংসে ১৮২০ রান করেছেন। তাঁর গড় ৩৭.৯১, রয়েছে ২টি সেঞ্চুরি ও ১২টি ফিফটি। এই তালিকায় দ্বিতীয় পাকিস্তানের সামি আসলাম (১৬৯৫) এবং তৃতীয় তাওহিদ হৃদয় (১৬২৪)।
বোলিংয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের। ৫৬ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ৮০ উইকেট। যুব ওয়ানডেতে তাঁর সেরা বোলিং ৫ উইকেট ১৭ রানে। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিমের ৭৩ উইকেটের রেকর্ড।
একটি টুর্নামেন্ট বা সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রের। ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে তিনি নিয়েছিলেন ২২ উইকেট। ২০১১ সালে একই সংখ্যক উইকেট নিয়ে তাঁর রেকর্ডে ভাগ বসান ভারতের স্পিনার বাবা অপরাজিত।
এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডটি পাকিস্তানের মোহাম্মদ নেওয়াজের, যিনি ২০১২ সালে নিয়েছিলেন ৪১ উইকেট। ২০১৫ সালে সেই রেকর্ডে ছুঁয়ে ফেলেন বাংলাদেশের সালেহ আহমেদ শাওন। এর আগে ২০০৯ সালে ৩৮ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ডটি ছিল বাংলাদেশের পেসার আবুল হাসানের দখলে।
ইনিংসে চার বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার সংখ্যায় সবার ওপরে বাংলাদেশের বর্তমান যুব পেসার ইকবাল হোসেন। ৩৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারে তিনি ছয়বার এক ইনিংসে চার বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে দুটি পাঁচ উইকেট।
টানা ম্যাচে চার উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটিও বাংলাদেশের। ২০০৯ সালে আবুল হাসান পরপর চার ম্যাচে কমপক্ষে চার উইকেট নিয়ে এই কীর্তি গড়েন।
উইকেটকিপার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের বিশ্ব রেকর্ডটি বাংলাদেশের আকবর আলীর। ৩৬ ম্যাচে তাঁর ডিসমিসাল সংখ্যা ৬৫, যার মধ্যে ৫৭টি ক্যাচ ও ৮টি স্টাম্পিং।
ফিল্ডার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার কীর্তি মাহমুদুল হাসান লিমনের। ৫৭ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ৩৩টি ক্যাচ।
সবচেয়ে বেশি যুব ওয়ানডে ম্যাচ খেলার তালিকার শীর্ষ তিনজনই বাংলাদেশের। নাজমুল হোসেন খেলেছেন সর্বোচ্চ ৫৮ ম্যাচ। এরপর মাহমুদুল হাসান লিমন ৫৭ ম্যাচ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৬ ম্যাচ।
অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও মিরাজের। ৫৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারের ৪৮টিতেই তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ভেঙেছেন মাহমুদুল হাসানের আগের রেকর্ড।
সব মিলিয়ে যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্য ও রেকর্ডই প্রমাণ করে, বয়সভিত্তিক এই ফরম্যাটে দীর্ঘদিন ধরেই শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে লাল-সবুজের দল।
















