ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের বাসিন্দা একক মা পারিসা যুদ্ধবিরতির সরকারি ঘোষণার মধ্যেও অব্যাহত হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শহরের মানুষের কাছে যুদ্ধ কখনোই থামেনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ জুলাই সকালে একই সময়ে শহীদ রাজাঈ বন্দর ও বিমানবন্দরে হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম এটিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে তুলে ধরলেও স্থানীয়দের কাছে এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধেরই অংশ।
পারিসা জানান, একক মা হওয়ায় তার ছেলে সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। তবু সমুদ্রে কাজ করা ছেলেকে নিয়ে প্রতিদিন উদ্বেগে থাকতে হয়, কারণ উপকূলীয় এলাকাও নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, হামলার রাতে পরিবার নিয়ে মাটিতে কান পেতে বিস্ফোরণের শব্দ থামার অপেক্ষায় থাকতে হতো। এমনকি প্রতিবেশীর দরজা জোরে বন্ধ হওয়ার শব্দেও এখন তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পারিসা আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বন্ধুর স্বামী নিহত হওয়ার পর থেকে যুদ্ধের মানসিক অভিঘাত আরও গভীর হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বান্দার আব্বাসের নারী উদ্যোক্তাদের একটি দলে যুক্ত হয়ে যুদ্ধ ও ইন্টারনেট বিভ্রাটে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার চেষ্টা করছেন।
তার মতে, সবচেয়ে বড় সংকট হলো মানুষ জানে না তারা যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি নাকি শান্তির মধ্যে বাস করছে। এই অনিশ্চয়তাই সাধারণ মানুষের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
















