দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিদেশে দত্তক দেওয়া হাজারো মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার ও সত্য উদঘাটনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি সত্ত্বেও অনেকেই বলছেন, এখনো প্রকৃত জবাবদিহি ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত হয়নি।
বিদেশে দত্তক নেওয়া একাধিক ব্যক্তি তাদের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানতে পেরেছেন, জন্মপরিচয়, পারিবারিক তথ্য এবং দত্তক গ্রহণের কারণ সম্পর্কিত নথিতে অসংগতি ও ভুয়া তথ্য রয়েছে। অনেকের দাবি, তাদের পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে শিশু মারা গেছে, অথচ পরে জানা যায় তাদের বিদেশে দত্তক দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি তদন্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচয় পরিবর্তন, ভুয়া নিবন্ধন, জন্মদাতা অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই দত্তক এবং নথি জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, বিদেশে দত্তক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকার মধ্যেও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
সরকার ইতোমধ্যে অতীতের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বিদেশে দত্তক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের সরাসরি দায়িত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদেশে দত্তক কার্যক্রম বন্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে দত্তক ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, কেবল ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়। তারা প্রত্যেক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি, প্রকৃত পরিচয় জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং জন্মপরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।
অনেক দত্তক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তারা এখনো নিজেদের প্রকৃত পরিচয়, জন্মতারিখ কিংবা পরিবারের তথ্য জানতে পারেননি। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া থেমে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই অধ্যায় শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং মানবাধিকার, পরিচয় এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নও। তাই অতীতের ভুল স্বীকারের পাশাপাশি কার্যকর সংস্কার ও স্বচ্ছ তদন্তই ক্ষতিগ্রস্তদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
















