যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের ঝুঁকি কমাতে দ্রুতগতিতে স্থলভিত্তিক রোবট মোতায়েন বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। সরঞ্জাম পরিবহন, আহতদের উদ্ধার, টহল, প্রতিরক্ষা এবং সীমিত আক্রমণাত্মক অভিযানে এসব রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির নেতৃত্ব বলছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিচালনায় মানবসেনার পাশাপাশি রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ইউক্রেনের লক্ষ্য চলতি বছরে কয়েক হাজার নতুন স্থলচালিত রোবট যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্ত করা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সামনের সারিতে এসব যন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে এবং আগের বছরের তুলনায় রোবট সংগ্রহের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে অধিকাংশ রোবট গোলাবারুদ, খাদ্য, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সামনের অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে আহত সেনাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং বিপজ্জনক এলাকায় টহল দেওয়ার মতো দায়িত্বও পালন করছে এসব যন্ত্র।
সামরিক সূত্রগুলোর মতে, ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে যুদ্ধক্ষেত্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় মানুষের পরিবর্তে রোবট ব্যবহার করলে সেনাদের প্রাণহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে।
ইউক্রেন ইতোমধ্যে এমন কিছু অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে স্থলচালিত রোবট ও আকাশচালিত ড্রোন একযোগে ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের অবস্থান দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনসহ প্রকৌশলগত কাজেও এসব রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিবিদরা এখন আরও উন্নত রোবট তৈরির কাজ করছেন, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় লক্ষ্য শনাক্ত, নজরদারি এবং আকাশ থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শত্রুপক্ষের হামলা এবং মাইন এখনো এসব রোবটের কার্যকারিতার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রোবটের সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও তারা এখনই মানবসেনার বিকল্প হয়ে উঠছে না। যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান দখল, নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিচালনার জন্য এখনো প্রশিক্ষিত সেনাদের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতের যুদ্ধে মানুষের পরিবর্তে ক্রমশ বেশি সংখ্যক রোবট বিপজ্জনক দায়িত্ব পালন করবে। এতে সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি কমার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিচালনার ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
















