সুদানের সাবেক বিদ্রোহী নেতা ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা মালিক আগার আয়ির দেশটির দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের অবসান এবং বেসামরিক গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক রূপরেখা প্রস্তাব করেছেন।
প্রস্তাবে জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে দেশের প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক পক্ষগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের হাতে এককভাবে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রের বাইরে সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠী বিলুপ্ত করা এবং ধাপে ধাপে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ ভূমিকা, আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর সম্পৃক্ততা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা জরুরি।
এতে আরও বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটে বিদেশি পক্ষগুলোর ভূমিকা স্বীকার না করলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না। সুদানের সরকারি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি আধাসামরিক বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে।
এই উদ্যোগটি কয়েক বছর আগে সরকার ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে।
দুই হাজার তেইশ সালে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সংঘাতকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যুদ্ধরত বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও উঠেছে।
গত কয়েক বছরে যুদ্ধ বন্ধে একাধিক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর কোনোটিই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে আলোচনা নিয়ে মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন পক্ষের আপত্তির কারণে শান্তি প্রচেষ্টা বারবার ভেস্তে গেছে।
মালিক আগার আয়িরের সর্বশেষ প্রস্তাবে স্পষ্ট করা হয়েছে, জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপ এবং সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা পৃথক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হবে। তাঁর মতে, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য ও বেসামরিক শাসনে প্রত্যাবর্তনের বিকল্প নেই।
















