নারী খতনা নিষিদ্ধ আইন বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিতে যাচ্ছে গাম্বিয়ার সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়কে ঘিরে দেশটির বহু মা উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, আইন দুর্বল হয়ে গেলে তাদের কন্যারাও অতীতের মতো একই নির্মম অভিজ্ঞতার শিকার হতে পারে।
রাজধানীর অদূরের একটি এলাকায় বসবাসকারী মরিয়ম জাব্বি জানান, মাত্র নয় বছর বয়সে তাকে জোর করে নারী খতনার শিকার করা হয়েছিল। বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই শারীরিক ও মানসিক ক্ষত আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। এখন তিনি সবচেয়ে বেশি ভয় পান, কোনো আত্মীয় তার অজান্তেই তার দুই মেয়েকে একই প্রথার মধ্যে ঠেলে দিতে পারে।
গত বছরের শেষ দিকে তার এলাকার কাছেই গোপনে নারী খতনার পর তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, নিজের জীবদ্দশায় কোনো অবস্থাতেই তিনি তার মেয়েদের এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে দেবেন না।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিনতা জাও নামের আরেক মা। ছোটবেলায় তিনিও নারী খতনার শিকার হয়েছিলেন। তার ভাষায়, নিষিদ্ধ আইন কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথা কিছুটা কমেছে। তবে আইন দুর্বল হয়ে গেলে আবারও পরিবারগুলোর ওপর সামাজিক চাপ বেড়ে যেতে পারে।
সারজো কাম্বি নামে আরেক নারী জানান, ব্যবসার কাজে বাইরে থাকার সময় তার মেয়েকে পরিবারের এক সদস্য তার অনুমতি ছাড়াই নারী খতনার শিকার করেন। অভিযোগ জানাতে পুলিশে গেলেও বিষয়টি পারিবারিক সমস্যা বলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যমান আইন যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে শিশুদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
গাম্বিয়ায় দুই হাজার পনেরো সালে নারী খতনা নিষিদ্ধ করে আইন করা হয়। এ আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং এর ফলে কারও মৃত্যু হলে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আইন প্রয়োগ সীমিত থাকায় গোপনে এই প্রথা এখনও অনেক এলাকায় চালু রয়েছে।
দুই হাজার চব্বিশ সালে দেশটির পার্লামেন্টে আইনটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি। এরপর বিষয়টি সাংবিধানিক প্রশ্ন হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে ওঠে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাম্বিয়ায় প্রতি চারজন নারীর মধ্যে প্রায় তিনজন জীবনের কোনো না কোনো সময় নারী খতনার শিকার হয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাঁচ বছর বয়সের আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নারী খতনা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি তাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। তাদের মতে, আইন বহাল রাখার পাশাপাশি কার্যকর প্রয়োগ, বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
এদিকে আদালতের রায়ের অপেক্ষায় থাকা বহু মা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি আইনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; বরং আগামী প্রজন্মের হাজারো কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকারও এর ওপর নির্ভর করবে।
















