প্রায় চার দশক ধরে সংরক্ষণাগারের একটি ড্রয়ারে অবহেলায় পড়ে থাকা একটি জীবাশ্ম পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, এটি অ্যান্টার্কটিকায় আবিষ্কৃত প্রথম ডাইনোসরের হাড়। নতুন এই আবিষ্কার মহাদেশটিতে কোটি কোটি বছর আগে ডাইনোসরের বসবাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনছে।
জীবাশ্মটি উনিশশো পঁচাশি সালে অ্যান্টার্কটিকার একটি দ্বীপে সংগ্রহ করা হলেও তখন এর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণাগারে রাখা ছিল। সম্প্রতি গবেষকেরা নমুনাটি পুনরায় পরীক্ষা করে জানান, এটি একটি উদ্ভিদভোজী দীর্ঘ গলা ও লম্বা লেজবিশিষ্ট ডাইনোসরের লেজের কশেরুকার অংশ।
গবেষকদের ধারণা, এই ডাইনোসরটি প্রায় আট কোটি বিশ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। সে সময় বর্তমান বরফে আচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকা ছিল ঘন বনাঞ্চলে ভরা, যেখানে বড় আকারের উদ্ভিদভোজী প্রাণীদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল।
জীবাশ্মটির আকার বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাত মিটার হতে পারে। এটি পূর্ণবয়স্ক আকারে ছোট ছিল, নাকি অল্পবয়সী প্রাণী ছিল, সে বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞানীদের মতে, অ্যান্টার্কটিকায় জীবাশ্ম অনুসন্ধান অত্যন্ত কঠিন, কারণ মহাদেশটির অধিকাংশ এলাকা বরফে ঢাকা। তাই এই আবিষ্কার শুধু ডাইনোসরের ইতিহাস নয়, বরং প্রাচীন অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।















