জাকার্তায় শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালীন এক মসজিদে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী। স্কুল প্রাঙ্গণের ভেতরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে ওই স্কুলেরই এক শিক্ষার্থীকে, যার পটভূমি ও উদ্দেশ্য এখন পুলিশি তদন্তের আওতায়।
জাতীয় পুলিশ প্রধান লিস্তিয়ো সিগিত প্রাবোও জানান, এখনও পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজন অস্ত্রোপচারের অধীনে রয়েছেন, যার মধ্যে একজনই সন্দেহভাজন মূল অভিযুক্ত।”
ঘটনাস্থল উত্তর জাকার্তার কেলাপা গাডিং এলাকা—যেখানে নামাজের খুতবা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর দুটি প্রবল বিস্ফোরণ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মসজিদ ও আশপাশে।
প্রাবোও আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছু খেলনা বন্দুক ও হাতে লেখা নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এসব বস্তু পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায় আসলে কী প্রেরণায় এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
প্রত্যক্ষদর্শী লুসিয়ানা, যিনি তখন স্কুলের ক্যান্টিনে কাজ করছিলেন, রয়টার্সকে বলেন, “হঠাৎ এমন শব্দ হলো যেন পুরো ভবন কেঁপে উঠল। আমরা ভয় পেয়ে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যাই। আমাদের মনে হচ্ছিল বুক ফেটে যাবে। জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ছে, ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার।”
প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো বিদ্যুতের তার বা সাউন্ড সিস্টেম বিস্ফোরিত হয়েছে। কিন্তু ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই স্পষ্ট হয়, এটি একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ।
জাকার্তা পুলিশের প্রধান আসেপ এদি সুএহেরি জানান, প্রাথমিকভাবে ৫৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছাত্র। এদের মধ্যে ২০ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থলে পাঠানো বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মসজিদের কাছে কিছু খেলনা রাইফেল ও একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে। সুএহেরি বলেন, “আমরা এখনো বিস্ফোরণের সঠিক কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, স্কুলটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী, পাশে সারিবদ্ধ অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটির কাঠামোতে বড় ক্ষতি না হলেও, জানালা ও দরজায় ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট।
হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করছে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। কেউ কাঁদছেন, কেউ সন্তানের নাম জানতে ছুটছেন এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে। স্থানীয় টেলিভিশনে এক মা বলেন, “আমার ছেলের মাথায় ও পায়ে কাচের টুকরো ঢুকে গেছে। আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে আছে।”
এই ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে নেমে এসেছে উদ্বেগের ছায়া। স্কুল প্রশাসন ও পুলিশ একযোগে কাজ করছে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। তদন্তকারীরা এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, এই বিস্ফোরণ কি কেবল এক তরুণের ভুল পদক্ষেপ, নাকি লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো উদ্দেশ্য।
















