চীনে কঠোর জিরো কোভিড নীতি হঠাৎ বাতিলের পর বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ থেকে ২৫ লাখের মধ্যে হতে পারে, যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।
২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের নেতৃত্ব হঠাৎ করেই জিরো কোভিড নীতি তুলে নেয়। দীর্ঘ তিন বছর ধরে কঠোর লকডাউন, গণপরীক্ষা ও নজরদারির মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হলেও শেষদিকে জনঅসন্তোষ ও বিক্ষোভের মুখে নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়।
নীতি তুলে নেওয়ার পরপরই দেশজুড়ে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে যায়, ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাপে পড়ে। অথচ সরকারি হিসেবে খুব কম সংখ্যক মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে গবেষকরা একটি ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তারা দেশের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। প্রায় ১০ হাজারের বেশি প্রবীণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তথ্য নিয়ে করা এই গবেষণায় দেখা যায়, নীতি পরিবর্তনের কয়েক সপ্তাহ পর মৃত্যুহার হঠাৎ বেড়ে যায়।
বিশেষ করে ২০২২ সালের শেষ সপ্তাহে মৃত্যুহার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে উচ্চ মৃত্যুহার অব্যাহত থাকে এবং পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। পুরো সময়কালটি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর প্রভাব ছিল ব্যাপক।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৮৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পুরুষদের মধ্যে মৃত্যুর হার নারীদের তুলনায় বেশি ছিল, যা বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা সাধারণ জনগণের সম্ভাব্য মৃত্যুহার অনুমান করেন। তাদের মতে, শুধু ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যেই অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১৪ লাখ থেকে ২৫ লাখের মধ্যে হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জিরো কোভিড নীতি প্রাথমিকভাবে অনেক প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও হঠাৎ করে তা তুলে নেওয়ার ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রস্তুত থাকার সুযোগ পায়নি। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, আইসিইউ সুবিধা ও টিকা কার্যক্রম সম্পূর্ণ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে ধীরে নীতি পরিবর্তন করা হলে এই ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব ছিল।
সব মিলিয়ে, চীনের এই অভিজ্ঞতা দেখায় যে জনস্বাস্থ্য নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তন বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
















