বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও কৃষিখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল ও সার সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ভারত সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে এর পরিমাণ আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
ভারত ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করে আসছে। এই অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, যা দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে কয়েক হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। এই সরবরাহ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় পক্ষ।
দুই দেশের বৈঠকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতেও নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ।
বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে অনুরোধ করেছে, যাতে বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো হয়। এই পাইপলাইনটি দুই দেশের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ২০২২ সালে চালু করা হয়।
এছাড়া ভবিষ্যতে ভারী জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে ভারত। এসব জ্বালানি শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নৌপরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। এই সহযোগিতা আরও জোরদার হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















