সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে বিপদে পড়া মানুষের ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। প্রস্তুতি ছাড়া পাহাড়ে ওঠা এবং পরে উদ্ধার ডাকার প্রবণতা বাড়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—পাহাড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব আসলে কার?
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পর্বত উদ্ধার সংস্থার প্রধান মাইক পার্ক জানান, সম্প্রতি দুই ব্যক্তি বিকেলে দেরিতে পাহাড়ে ওঠেন, সঙ্গে ছিল না পর্যাপ্ত সরঞ্জাম বা আলো। পরে অন্ধকার নেমে এলে তারা পথ হারিয়ে সাহায্য চান। সময়মতো উদ্ধার না হলে তারা ঠান্ডায় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযানের সংখ্যাও বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে উদ্ধার অভিযানের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে বছরে তিন হাজার ছাড়িয়েছে।
বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে দুর্ঘটনার হার দ্রুত বেড়েছে। অনেকেই পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা বা প্রস্তুতি ছাড়া পাহাড়ে যাচ্ছেন, যা বিপদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, আগে অধিকাংশ উদ্ধার হতো শারীরিক আঘাতের কারণে। এখন অনেক ক্ষেত্রে মানুষ শারীরিকভাবে সক্ষম থাকলেও মানসিকভাবে পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে আটকে পড়ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবক বা কনটেন্ট নির্মাতাদেরও দায়ী করছেন অনেকে। জনপ্রিয় লোকেশন দেখে অনেকেই সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ কেউ আবার ভিডিও তৈরির জন্য ঝুঁকি নিচ্ছেন।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের এক উদ্ধারকর্মী জানান, কিছু ক্ষেত্রে মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে গিয়ে তা ভিডিও করতেও দেখা গেছে।
পাহাড়ি দুর্ঘটনার কিছু নির্দিষ্ট স্থানেও ঝুঁকি বেশি। উত্তর ওয়েলস অঞ্চলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যা উদ্ধারকর্মীদের ওপর মানসিক চাপও বাড়াচ্ছে।
এ অবস্থায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা বাধা বসানোর প্রস্তাব উঠেছে। কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। তবে অনেকেই মনে করেন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও স্বাধীনতার অনুভূতি নষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষকে সচেতন করা, আবহাওয়া ও নিরাপত্তা তথ্য সহজলভ্য করা এবং যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
তবে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। এক তরুণ পর্বতারোহীর মৃত্যু সেই বাস্তবতাই তুলে ধরে, যেখানে অভিজ্ঞতা ও সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পাহাড়ে গেলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পাহাড় সবসময়ই থাকবে—কিন্তু নিরাপদে ফিরে আসাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
















