হাঙ্গেরির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন তারই সাবেক মিত্র পিটার মাগিয়ার। আগামী ১২ এপ্রিলের নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে প্রচারণায় নেমে তিনি পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
৪৫ বছর বয়সী মাগিয়ার একসময় অরবানের দল ফিদেজের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে হঠাৎ প্রকাশ্যে এসে তিনি দল ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তার প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি দুর্নীতি দমন, অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আটকে থাকা অর্থ ছাড় করানো। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে রোমা সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও করছেন।
অন্যদিকে অরবান তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের প্রভাবিত ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন এবং নিজেকে শান্তির পক্ষে নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
মাগিয়ারের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। তিনি ছাত্রজীবনে ফিদেজে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তার সাবেক স্ত্রী জুডিত ভার্গা ছিলেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।
২০২৪ সালে একটি ক্ষমা কেলেঙ্কারির পর ভার্গা পদত্যাগ করলে মাগিয়ার প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা শুরু করেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি আর এমন একটি ব্যবস্থার অংশ থাকতে চান না যেখানে প্রকৃত ক্ষমতাধারীরা আড়ালে থাকে।
এরপর তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। পরবর্তীতে জনমত জরিপে তার দল ফিদেজকে টেক্কা দিতে শুরু করে।
মাগিয়ার নিজেকে পুরোনো বিরোধী দলগুলোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছেন এবং তাদের দুর্বলতার সমালোচনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি অরবানের রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে তিনি সব আসনে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন এবং প্রতিদিন একাধিক জনসভা করছেন। তার দাবি, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অরবানের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ভাঙা সহজ হবে না। তবুও মাগিয়ারের উত্থান হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
















