ইকুয়েডর সরকার দাবি করেছে, সংগঠিত অপরাধ দমনে তাদের অভিযানের ফলে দেশে হত্যাকাণ্ডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এই কঠোর পদক্ষেপ ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কাও বাড়ছে।
দেশটির সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়ার কঠোর অবস্থান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনী দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে।
তবে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং সামরিক পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, অপরাধ দমনের নামে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ইকুয়েডরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপরাধ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মাদক চোরাচালানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুটে অবস্থানের কারণে দেশটি সহিংসতার বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
গত বছর দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অপরাধকে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করে সামরিক অভিযান শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, অপরাধ চক্রগুলোকে নির্মূল করতে তারা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যার মধ্যে কারফিউ জারিও রয়েছে।
তবে সীমান্ত এলাকায় বোমা হামলা এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিবেশী দেশ থেকেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
কিছু রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই অভিযান প্রকৃত অপরাধ দমনের বদলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন হলেও তা যেন মানবাধিকার ও আইনের শাসনের সীমা অতিক্রম না করে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
















