লাহোরের একটি আদালত পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক আলি জাফরের করা মানহানির মামলায় গায়িকা মিশা শাফির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। আদালত শাফিকে জাফরকে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পাকিস্তানের বহুল আলোচিত যৌন হয়রানি অভিযোগের মামলায় নতুন মোড় এনে দিয়েছে এই রায়। ২০১৮ সালে মিশা শাফি সামাজিক মাধ্যমে আলি জাফরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন, যা দেশটির অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শাফির দেওয়া অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তার বক্তব্য মানহানিকর ও ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আদালত তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশ বা প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দিয়েছে।
তবে শাফির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তাদের দাবি, নিম্ন আদালত প্রমাণ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেনি এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উপেক্ষা করেছে।
২০১৮ সালে শাফি একাধিকবার জাফরের বিরুদ্ধে শারীরিক প্রকৃতির যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা তার দায়িত্ব। জাফর তখনই অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দেন।
এই ঘটনায় আরও কয়েকজন নারী জাফরের বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ তোলেন এবং অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শাফির পক্ষে অবস্থান নেন।
এরপর দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। শাফির করা যৌন হয়রানির অভিযোগটি এখনো সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি উভয়ের করা মানহানির পৃথক মামলাও চলমান।
সাম্প্রতিক এই রায়কে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশেষ করে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যৌন হয়রানির শিকারদের কথা বলার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
আইনজীবীদের মতে, যদি মূল অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই মানহানির রায় দেওয়া হয়, তবে তা ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে শাফির পরিবার জানিয়েছে, তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আছেন।
















