মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চলমান সংকট কিছুটা ‘শান্ত করার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের সময় দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর রাজ্যটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নিহতদের একজন ছিলেন আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটি, যিনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দুই সদস্যের গুলিতে প্রাণ হারান।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এটি কোনো পিছু হটা নয়, বরং কৌশলে সামান্য পরিবর্তন। তিনি জানান, মিনিয়াপোলিসে চলমান কড়াকড়ি অভিযানের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কিছুটা উত্তেজনা কমানোর পথে যাচ্ছে।
মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন অভিযান ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। এই অভিযানের সময় প্রেটি ও আরেক নাগরিক রেনে গুড নিহত হন। এ ঘটনায় রাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে।
প্রেটি নিহত হওয়ার ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্ত্রী ক্রিস্টি নোমের ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকানও সমালোচনা করছেন। তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এখনো নোমের ওপর আস্থা রাখছেন।
শনিবার প্রেটি তার মোবাইল ফোনে সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ধারণ করছিলেন, এ সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বৈধ অস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন এবং ঘটনার সময় তার কাছে অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা তাকে গুলি করার আগে সেই অস্ত্রটি জব্দ করেছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা নোম ঘটনার পর প্রেটিকে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসে জড়িত’ বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, তিনি কর্মকর্তাদের দিকে অস্ত্র তাক করেছিলেন। তবে তদন্ত শুরুর আগেই দেওয়া এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
প্রাথমিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রেটি কোনো সময়ই তার অস্ত্র বের করেননি। কর্মকর্তারা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পর গুলি চালানো হয়। এতে নোমের বক্তব্যের সঙ্গে প্রমাণের অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়েছে বলে সমালোচকরা বলছেন।
মঙ্গলবার কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থার এক কর্মকর্তা কংগ্রেসকে জানান, ঘটনার সময় দুই ফেডারেল কর্মকর্তা গুলি চালান। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেটিকে আটক করতে গেলে তিনি বাধা দেন এবং ধস্তাধস্তির সময় এক কর্মকর্তা বারবার চিৎকার করে বলেন, তার কাছে বন্দুক আছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এক সীমান্তরক্ষী ও এক সিবিপি কর্মকর্তা গ্লক পিস্তল থেকে গুলি ছোড়েন। সংস্থার অভ্যন্তরীণ দায়িত্বশীল দপ্তর দেহে ধারণ করা ক্যামেরার ভিডিও ও নথি পর্যালোচনা করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইন অনুযায়ী, সিবিপি হেফাজতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কংগ্রেস কমিটিকে জানানো বাধ্যতামূলক। মিনেসোটার ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকলেও এরই মধ্যে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
















