যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে এই অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে ব্লাটার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের উপযোগিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তিনি সুইস আইনজীবী ও দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ মার্ক পিয়েথের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান, যিনি ফুটবলপ্রেমীদের যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্ক পিয়েথ বলেন, সব দিক বিবেচনায় ফুটবল সমর্থকদের জন্য একটাই পরামর্শ—যুক্তরাষ্ট্র এড়িয়ে চলা। তিনি বলেন, টেলিভিশনে বসেই খেলা দেখা ভালো। সেখানে গেলে কর্মকর্তাদের অসন্তুষ্ট করলে সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৮৯ বছর বয়সী সেপ ব্লাটার ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দুর্নীতির তদন্তের মুখে পড়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন দেশে আগ্রাসী কূটনৈতিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে অসন্তোষ বাড়ছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ওই দুই দেশের ফুটবল সমর্থকদের বিশ্বকাপ যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একইভাবে ইরান ও হাইতির নাগরিকদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যদিও ওই দুই দেশ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
এর আগে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রীড়া কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদরাও বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের এক সহসভাপতি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ বর্জনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবা উচিত। তার মতে, অতীতের অলিম্পিক বর্জনের যুক্তির চেয়েও বর্তমান হুমকি বেশি।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একসময় কাতার বিশ্বকাপকে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক বলা হলেও এখন কেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নীরবতা। তার মতে, ক্রীড়া সংস্থা ও সমাজ ধীরে ধীরে মূল্যবোধ রক্ষার সীমারেখা ভুলে যাচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরোধীদলীয় নেতা জুলিয়াস মালেমাও বিশ্বকাপ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনামলের তুলনা করে বলেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জন করা উচিত।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
নেদারল্যান্ডসে এক লাখের বেশি সমর্থক অনলাইনে আবেদন জানিয়ে জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ বর্জনের অনুরোধ করেছেন। তবে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে কেন্দ্র করে ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
















