বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ব্যায়াম একসঙ্গে করার অভ্যাস সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে—এমনটাই বলছে একটি নতুন গবেষণা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ বছর ধরে এক লাখ ১০ হাজারের বেশি নারী ও পুরুষের ব্যায়ামের অভ্যাস বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, যারা নিয়মিত নানা ধরনের ব্যায়াম করেছেন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি এক ধরনের ব্যায়ামে সীমাবদ্ধ থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম ছিল।
এই সুফল হাঁটা, দৌড়ানো, টেনিস বা রোয়িংয়ের মতো একক ব্যায়ামের চেয়েও বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, মোট কতটা সময় ব্যায়াম করা হচ্ছে সেটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কর্মকাণ্ড একত্রে করলে শরীর আরও বেশি উপকৃত হয়।
লন্ডনে বসবাসকারী ২৯ বছর বয়সী মার্কেটিং পেশাজীবী ম্যাডি অ্যালবন নিয়মিত দৌড়ানোর পাশাপাশি যোগব্যায়াম, টেনিস, পিলাটিস, স্পিন ক্লাস এবং ভারোত্তোলন করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যায়াম শরীরের জন্য আলাদা উপকার বয়ে আনে। দৌড়ে ভালো করতে চাইলে শক্তি বাড়ানোর অনুশীলনও দরকার হয়। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্যময় ব্যায়াম তাকে সাহায্য করে বলে জানান তিনি।
গবেষণার প্রধান লেখক Harvard School of Public Health-এর ড. ইয়াং হু বলেন, উচ্চমাত্রার শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যায়ামের ধরন বৈচিত্র্যপূর্ণ হলে বাড়তি স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে শক্তিবর্ধক ও অ্যারোবিক ব্যায়ামের সমন্বয় উপকারী।
এনএইচএসের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা উচিত। পাশাপাশি সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার বা ৭৫ মিনিট তীব্র ব্যায়াম করার সুপারিশ করা হয়, যা কয়েক দিনে ভাগ করে করা ভালো।
গবেষণায় অংশ নেওয়া নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতার, টেনিস, স্কোয়াশ, যোগব্যায়াম, বাগান করা ও সিঁড়ি ভাঙার মতো কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়েছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যায়ামই মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়ক হলেও, যারা সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় ব্যায়াম করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসজনিত রোগে মৃত্যুঝুঁকি ১৩ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত কম ছিল।
গবেষণায় আরও বলা হয়, সপ্তাহে ছয় ঘণ্টা মাঝারি বা তিন ঘণ্টা তীব্র ব্যায়াম সবচেয়ে উপযোগী মাত্রা, এর বেশি করলে বাড়তি সুফল তেমন বাড়ে না। তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা হওয়ায় সরাসরি কারণ–ফল সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
















