নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আটলান্টিক উপকূলের কাছে নির্মাণাধীন সমুদ্রভিত্তিক বায়ুশক্তি প্রকল্পগুলোর লিজ কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ব উপকূলের জনবহুল এলাকায় এসব উইন্ড টারবাইন রাডার ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে কি না এবং অন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, বড় আকারের পাঁচটি বায়ুশক্তি প্রকল্প সাময়িকভাবে থামানো হচ্ছে, যাতে উদীয়মান জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করা যায়। এসব প্রকল্প নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড ও কানেকটিকাট উপকূলে নির্মাণাধীন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুশক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তার মতে, এই জ্বালানি নির্ভরযোগ্য নয় এবং বিদ্যুতের খরচ বাড়ায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি নতুন প্রকল্প বন্ধের উদ্যোগ নেন। স্বরাষ্ট্র সচিব ডাগ বার্গামও মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ব্যবস্থায় বায়ু বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ নেই।
স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বড় আকারের অফশোর উইন্ড প্রকল্পগুলো রাডারে ‘ক্লাটার’ তৈরি করতে পারে, যার ফলে আসল লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে কিংবা ভুয়া লক্ষ্য দেখা দিতে পারে। রাডারের ভুয়া সংকেত কমাতে গেলে প্রকৃত হুমকি ধরা না পড়ার ঝুঁকিও থাকে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্গাম বলেন, এসব প্রকল্প আকাশসীমায় কে মিত্র আর কে শত্রু তা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ড্রোন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।
তবে ভার্জিনিয়ার বায়ুশক্তি প্রকল্পের উদ্যোক্তা ডমিনিয়ন এনার্জি জানিয়েছে, তাদের প্রকল্প উপকূল থেকে অনেক দূরে এবং দৃশ্যমান প্রভাব বা জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরীক্ষামূলক দুটি টারবাইন পাঁচ বছর ধরে চালু থাকলেও কোনো নিরাপত্তা সমস্যা দেখা যায়নি।
এই ঘোষণার পর ডমিনিয়ন এনার্জির শেয়ারের দাম তিন শতাংশের বেশি কমে যায়। ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অরস্টেডের শেয়ার প্রায় ১২ শতাংশ এবং টারবাইন নির্মাতা ভেস্টাসের শেয়ারও কমেছে।
কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্ট এই সিদ্ধান্তকে অস্থির ও অনিশ্চিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে পুরো অঞ্চলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে এবং শেষ পর্যায়ে থাকা প্রকল্প ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার মতে, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, কিন্তু প্রশাসনের বারবার নীতির পরিবর্তনে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এর আগে ডিসেম্বর মাসে একজন ফেডারেল বিচারক নতুন বায়ুশক্তি প্রকল্প নিষিদ্ধের একটি উদ্যোগ বাতিল করে দেন, সেটিকে আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তবে জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন পারমিট ও লিজ স্থগিত করে ফেডারেল পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
পাঁচ মাস পর নিউইয়র্কের নেতৃত্বে ১৭টি অঙ্গরাজ্য এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করে, যেখানে বায়ুশক্তি শিল্পের জন্য এটিকে অস্তিত্বের হুমকি বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে স্থগিতাদেশ জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।















