দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা; ইসলামাবাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
৬ অক্টোবর ২০২৫ | ঢাকা
ভারতের প্রতিরক্ষা ও সামরিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে “উস্কানিমূলক” এবং “যুদ্ধংদেহী” বলে আখ্যা দিয়ে পাকিস্তান সতর্ক করেছে যে, এমন বক্তব্য ভবিষ্যতে “বিপর্যয়কর সংঘাত” ডেকে আনতে পারে।
শনিবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, “ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা নেতৃত্ব যে ধরণের যুদ্ধংদেহী মন্তব্য করছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব উস্কানির ফলে নতুন সংঘাত শুরু হলে তার পরিণতি হবে বিপর্যয়কর।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যদি আবার কোনো ধরনের শত্রুতা শুরু হয়, পাকিস্তান তা মোকাবেলায় দ্বিধা করবে না। প্রতিক্রিয়া হবে দৃঢ় ও নির্দয়।”
ভারতের অবস্থান ও সাম্প্রতিক মন্তব্য
পাকিস্তানের এই প্রতিক্রিয়া আসে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর বক্তব্যের পর। তিনি শুক্রবার বলেন,
পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে “ভারত এবার সংযম দেখাবে না,” এবং “তাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।”
এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তান যদি গুজরাট ও সিন্ধ প্রদেশের সীমান্তবর্তী সির ক্রিক এলাকায় কোনো ধরনের “অ্যাডভেঞ্চার” চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া হবে “দৃঢ় ও চূড়ান্ত”, যা “ইতিহাস ও ভূগোল উভয়ই বদলে দিতে পারে।”
সির ক্রিক প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি জোয়ারি খাঁড়ি, যা দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটি যে কোনো পরিস্থিতিতে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরতম অংশেও আঘাত হানতে সক্ষম। এবার আমরা ভূগোলের নিরাপত্তার মিথ ভেঙে দেব।”
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে তা “দুই দেশের জন্যই ভয়াবহ বিপর্যয়” ডেকে আনবে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের পটভূমি
গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যে টানা চার দিন ধরে সংঘর্ষ হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২২ এপ্রিল জম্মু–কাশ্মীরের পাহালগাম পর্যটন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার পর।
ভারত ওই হামলার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপায়, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানায়।
এরপর ভারত ‘অপারেশন সিনদূর’ নামে অভিযান চালায়, যার জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ানুন মারসুস’ পরিচালনা করে।
চার দিন ধরে উভয় পক্ষের আকাশ হামলার পর ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি আসে।

















