যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জন্য প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি সহায়তা ও উন্নয়ন প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে, একই সময়ে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির ওপর আরও বেশি মার্কিন অস্ত্র কেনার চাপ দিচ্ছিল।
চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের বিদ্যমান এফ-১৬ বহরের জন্য আধুনিক হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার আপগ্রেড, নেভিগেশন ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম উন্নয়ন, বন্ধু-শত্রু শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং মেরামত সহায়তা দেওয়া হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা গত ৪ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কংগ্রেসে পাঠিয়েছে।
পাকিস্তানের হাতে বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি কার্যকর এফ-১৬ রয়েছে। এর মধ্যে পুরোনো ব্লক-১৫ সংস্করণ, জর্ডান থেকে আনা কিছু বিমান এবং তুলনামূলক নতুন ব্লক-৫২ প্লাস সংস্করণও আছে। সর্বশেষ অনুমোদিত প্যাকেজে প্রায় ৬৪৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার পাশাপাশি ৩৭ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিংক-১৬ ডেটা লিংক সিস্টেম, যা যুদ্ধবিমান, নৌযান ও স্থলবাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হয়। প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য কিছু নিষ্ক্রিয় বোমার কাঠামোও এই চুক্তির অংশ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অনুমোদন মূলত ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া একটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়তা চুক্তির ধারাবাহিকতা। উভয় দেশই আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এফ-১৬-এর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাই সরকার পরিবর্তন হলেও এই সহযোগিতা বজায় রয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের মে মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাতে উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। পাকিস্তান ওই সংঘাতে এফ-১৬সহ চীনে তৈরি জে-এফ-১৭ ও জে-১০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এই চুক্তির সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরও মার্কিন অস্ত্র কেনার চাপ বাড়ায়। তবে সম্প্রতি ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে এফ-১৬ চুক্তি ভারতের কাছে নেতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
তবে কেউ কেউ মনে করছেন, বিষয়টি সরাসরি ভারতকে চাপ দেওয়ার কৌশল নয়। বরং এটি পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ভারতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে আলাদা পথে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এই প্যাকেজ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় নিরাপত্তা সহায়তা। যদিও পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ এখন চীন থেকে আসছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা দেশটির এফ-১৬ বহরকে আগামী কয়েক দশক কার্যকর রাখতে সহায়ক হবে।
















