বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন মিলতে পারে জুলাইয়ে, পিএসপি লাইসেন্স পেতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে
ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরির ইঙ্গিত দিয়ে রবি ও বাংলালিংক শিগগিরই ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা চালু করতে যাচ্ছে; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত পূরণ হলেই মিলবে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স।
ডিজিটাল বা ই-ওয়ালেট সেবা চালুর পথে এগোচ্ছে দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা ও বাংলালিংক। রবি ‘স্মার্ট পে’ এবং বাংলালিংক ‘নিউ পিএসপি’ নামে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) লাইসেন্স পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুলাই মাসে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, রবি ও বাংলালিংক গত বছরের ডিসেম্বরেই ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর জন্য আবেদন জমা দেয়। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি আলাদা কোম্পানি গঠন করেছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। বর্তমানে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের শেষ ধাপে রয়েছে। শিগগিরই প্রাথমিক অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হতে পারে। এনওসির শর্ত পূরণ হলেই মিলবে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স।
রবি ও বাংলালিংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা শুধু প্রচলিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নয়, বরং ভিন্নধর্মী ও সহজ ডিজিটাল পেমেন্ট সমাধান নিয়ে আসতে চান। এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে ডিজিটাল আর্থিক সেবা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।
ডিজিটাল ওয়ালেট চালু হলে রবি ও বাংলালিংক চাইলে বিকাশ বা নগদের মতো এজেন্ট নেটওয়ার্কও গড়ে তুলতে পারবে। তবে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা অনুমোদন নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, রবি ও বাংলালিংক আবেদন করেছে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে শিগগিরই তাদের অনুমোদন দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক এনওসি পাওয়ার পর চূড়ান্ত লাইসেন্স পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করে তা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়ন, আইসিটি নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, সফটওয়্যার কোয়ালিটি ও ভলনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন এবং ডেটা ব্যাকআপ নীতিমালা কার্যকর করতে হবে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র বলছে—আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক কারণে পিএসপি লাইসেন্স পায়নি। এর উদাহরণ হিসেবে গ্রামীণ টেলিকমের আবেদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। ২০২১ সালে আবেদন করার পর সব শর্ত পূরণ করলেও ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়ায় গতি আসে।
বর্তমানে দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিএসপির সংখ্যা নয়টি। এর মধ্যে রয়েছে বিকাশ, নগদ, উপায়, রকেট, ট্যাপ, সমাধানসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। রবি ও বাংলালিংক যুক্ত হলে ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা
















