যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য বার্ড ফ্লু মহামারির ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন টিকার মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এই টিকা এইচ৫এন১ ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি, যা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পাখির মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণ ঘটিয়েছে এবং কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণ হয়েছে আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে আসার ফলে।
নতুন এই টিকাটি এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি, যা আগে করোনাভাইরাসের টিকায় ব্যবহার করা হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও ব্যাপক পরিসরে টিকা উৎপাদন সম্ভব, যা মহামারি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় প্রায় চার হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেবেন। এর মধ্যে মুরগি খামারের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, কারণ তারা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত।
হ্যাম্পশায়ারের বাসিন্দা ক্লেয়ার হাওয়ার্ড, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মুরগি পালন করেন, এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রথমদের একজন। তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ছিল এবং ভবিষ্যতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণার প্রধান সমন্বয়কারী ডা. রেবেকা ক্লার্ক জানান, ভাইরাসটি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রাণীতে ছড়াচ্ছে। যদিও এখনো মানুষ থেকে মানুষে সহজে সংক্রমণ হয় না, তবুও এই সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
গবেষণার মাধ্যমে টিকার নিরাপত্তা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হবে। সফল হলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এটি অনুমোদন পেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে ১১৬ জন মানুষের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এসেছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সবসময় পরিবর্তিত হয় এবং নতুন মহামারি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। অতীতে স্প্যানিশ ফ্লুর মতো মহামারিতে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই টিকার উৎপাদন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডশায়ারের একটি কারখানায় করা হবে, যেখানে বছরে প্রায় ১০ কোটি ডোজ তৈরি করা সম্ভব। জরুরি পরিস্থিতিতে তা বাড়িয়ে ২৫ কোটি ডোজ পর্যন্ত নেওয়া যাবে।
গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও রয়েছে। মহামারি প্রতিরোধে বৈশ্বিক জোট একটি বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে দরিদ্র দেশগুলোতে দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা সরবরাহের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম প্রস্তুতি গ্রহণই সম্ভাব্য মহামারি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
















