রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র মানবিক সহায়তা দিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
এক আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং সম্মানজনকভাবে রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত না হলে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে না। তাই এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও সহযোগিতা জরুরি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যখন মানবিক চাহিদা এখনো তীব্র, তখন দাতা দেশগুলোকে আরও অর্থ সহায়তা বাড়াতে হবে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে, যা নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গার সংখ্যা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১২ লাখের কাছাকাছি মানুষ বসবাস করছে।
এর আগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তী সময়েও একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে, যার পেছনে শরণার্থীদের আস্থাহীনতা বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
কোভিড মহামারি এবং মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে।
ফোরামের ফাঁকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গে বৈঠকেও এই সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা ছাড়া কার্যকর সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।
















