প্রচলিত ব্যথানাশক ওষুধ অ্যাসপিরিন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে—এমন প্রমাণ নতুন করে জোরালো হচ্ছে, আর বিজ্ঞানীরা এখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারছেন কীভাবে এটি কাজ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নিয়মিত কম মাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণ ক্যানসার হওয়া বা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। বিশেষ করে যাদের জিনগত কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, তাদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, লিঞ্চ সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে করা এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অ্যাসপিরিন গ্রহণে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এই ফলাফল ইতোমধ্যে কিছু দেশের চিকিৎসা নীতিতেও প্রভাব ফেলেছে।
গবেষকদের মতে, অ্যাসপিরিন শরীরের ভেতরে একাধিকভাবে কাজ করে। এটি কক্স-২ নামের একটি এনজাইমকে দমন করে, যা কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় জড়িত থ্রম্বক্সেন নামের উপাদান কমিয়ে দেয়, যার ফলে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষকে সহজে শনাক্ত করতে পারে।
এছাড়া ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া বা পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকিও অ্যাসপিরিন কমাতে পারে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। কিছু দেশে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য চিকিৎসার অংশ হিসেবে কম মাত্রার অ্যাসপিরিন ব্যবহারের সুপারিশ করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। অ্যাসপিরিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, যেমন পেটের সমস্যা, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা আলসার। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত এই ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।
গবেষণা এখনও চলমান, এবং বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ভবিষ্যতে অ্যাসপিরিনের এই সম্ভাবনা আরও পরিষ্কার হবে।
















