প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের ধরন নজরদারিতে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীদের কী চাপা ও মাউস ক্লিকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সংগ্রহ করা হবে, যা এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব কম্পিউটার ও অভ্যন্তরীণ অ্যাপ ব্যবহারের সময় কর্মীদের কাজের ধরন রেকর্ড করা হবে। এই তথ্য ব্যবহার করে এমন এআই মডেল তৈরি করা হবে, যা মানুষের দৈনন্দিন কম্পিউটার ব্যবহারের আচরণ অনুকরণ করতে সক্ষম হবে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মানুষের কাজের বাস্তব উদাহরণ ছাড়া কার্যকর এআই তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে তিনি দাবি করেন, সংগৃহীত তথ্য অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হবে না এবং সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্ষুদ্রতম কাজও নজরদারির আওতায় আসা অস্বস্তিকর এবং ভবিষ্যতে চাকরি হারানোর আশঙ্কার মধ্যে এটি আরও উদ্বেগ তৈরি করছে।
চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং আরও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নতুন নিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এই নতুন উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ। যদিও এর আগে কর্মীদের কার্যক্রম প্রতিষ্ঠান দেখতে পারত, তবে বিশেষভাবে এআই প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য সংগ্রহের এই পদ্ধতি নতুন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৬ সালে এ খাতে প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন কর্মীদের কাজের ধরনকেও তথ্য হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। তবে এর ফলে গোপনীয়তা ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে।
















