বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও ২০২৬ সালের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র অর্ধেক নিয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সোমবার মোট ২৩ বিলিয়ন ডলারের আবেদন জানায়—যা প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘ ২০২৫ সালের জন্য ৪৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দাতা দেশগুলোর বড় ধরনের সহায়তা কাটছাঁটের কারণে লক্ষ্যটি কমাতে হয়। নভেম্বর পর্যন্ত সংস্থা মাত্র ১২ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে—যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম—এবং যার ফলে সংস্থাকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকেই অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ।
জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রম প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, “আমরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে, অর্থের ঘাটতিতে এবং হামলার ঝুঁকিতে আছি। আমরা আগুনের দিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দৌড়াই, অথচ আগুন নেভানোর মতো পানিও ট্যাংকে নেই। তবু গুলিও খাচ্ছি।”
তিনি জানান, গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সমাজের উদাসীনতা জাতিসংঘকে “নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত” নিতে বাধ্য করছে।
২০২৬ সালের পরিকল্পনায় জাতিসংঘ প্রায় ৮৭ মিলিয়ন মানুষকে ‘অগ্রাধিকার তালিকায়’ রেখেছে, যাদের জীবন এখন ঝুঁকির মুখে। তবে মোট এক-চতুর্থাংশ বিলিয়ন মানুষ জরুরি সহায়তা প্রয়োজন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তহবিল পাওয়া গেলে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ে ১৩৫ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় আবেদন—৪ বিলিয়ন ডলার—গেলেছে ফিলিস্তিন অধিকৃত অঞ্চলের জন্য, যার অধিকাংশই গাজায় ব্যবহৃত হবে। ইসরায়েলের অব্যাহত ধ্বংসযজ্ঞে ২৩ লাখ মানুষের প্রায় সবাই এখন গৃহহীন এবং সম্পূর্ণভাবে সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার দেশ সুদান, এরপর সিরিয়া।
ফ্লেচার বলেন, পরিকল্পনাটি মূলত যুদ্ধ, জলবায়ু বিপর্যয়, মহামারি, ফসলহানি ইত্যাদি সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলো মোকাবিলায় জীবনরক্ষায় কেন্দ্রিত।
বিশ্বের প্রায় ২৪ কোটি মানুষ সংঘাত, রোগব্যাধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন—এমন হিসাব দিয়েছে জাতিসংঘ।
যদি পর্যাপ্ত তহবিল আবারও না আসে, জাতিসংঘ জানায় যে তারা নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষের কাছে অতিরিক্ত সহায়তার আহ্বান জানাতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও সবচেয়ে বড় দাতা দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের কাটছাঁটের কারণে তাদের অবদান মোট সহায়তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি থেকে কমে ১৫.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
















