ক্যারিবিয়ান সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দ্বিগুণ হামলার ঘটনায় আইনপ্রণেতাদের একাংশ ভিডিওটি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। হামলায় অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান নিয়ে নতুন আইনি প্রশ্ন তুলেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বরের ওই অভিযানে প্রথম হামলায় নৌকা অচল হয়ে পড়ার পর বেঁচে থাকা দু’জনকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়েছিল—এমন অভিযোগ উঠে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বন্ধ-দরজার বৈঠকে ভিডিওটি দেখেন, তবে দুই দলের মূল্যায়ন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডেমোক্র্যাটরা হামলার বৈধতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানালেও রিপাবলিকানরা এটিকে যৌক্তিক বলছেন।
হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্মিথ বলেন, লক্ষ্যবস্তু নৌকাটি প্রথম হামলায় ‘স্পষ্টতই অক্ষম’ হয়ে পড়েছিল এবং বেঁচে থাকা দু’জন কোনো অস্ত্র বা যোগাযোগের ক্ষমতা রাখেননি। তাঁর দাবি, ভিডিও প্রকাশ হলে রিপাবলিকানদের বক্তব্য “মিথ্যা” প্রমাণিত হবে।
হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট নেতা জিম হাইমসও ভিডিও প্রকাশের পক্ষে। তিনি বলেন, “মানুষের জানা উচিত, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি দুই ডুবন্ত মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন তা দেখতে কেমন।”
যদিও কয়েকজন রিপাবলিকানও স্বচ্ছতার স্বার্থে ভিডিও প্রকাশে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। সেনেটর টম কটন বলেন, তিনি ফুটেজ দেখে কোনো অস্বস্তি বোধ করেননি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেখা বহু হামলার মতোই মনে হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, ভিডিও প্রকাশে তাঁর ‘কোনো সমস্যা নেই’। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে এবং “দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত” নেওয়া হবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, হেগসেথের নির্দেশে কমান্ডারদের বলা হয় যেন কোনো জীবিত না থাকে—এমন অভিযোগ তিনি বারবার ‘ভুয়া, মনগড়া ও উসকানিমূলক’ বলে অস্বীকার করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষে নেই, তাই এই হামলাগুলো যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়বে না—বরং মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইনে হত্যা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের কমপক্ষে ২২টি হামলায় অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছে। তবে নৌকাগুলো মাদক বহন করছিল কি না, যুক্তরাষ্ট্রগামী ছিল কি না, বা সেগুলো কোনো নিষিদ্ধ কার্টেলের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে ছিল—এর কোনো প্রমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
















