প্রধান উপদেষ্টা-রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো— বিশ্লেষকদের মতে রাজনৈতিক বিভাজন ও আইনশৃঙ্খলা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল দিতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর এখন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ বাকি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বিভাজন ও অনিশ্চয়তার কারণে এখনও ‘নির্বাচনের ভাইব’ পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার কমিশন সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি ও অন্যান্য কমিশনাররা। এখন ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রস্তুতি অবহিত করলেই তফসিল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতার শেষ ধাপ সম্পন্ন হবে।

সিইসি জানিয়েছেন, নাগরিকরা ইতোমধ্যে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় দেশে ‘নির্বাচনের আমেজ’ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম মনে করেন, রাজনৈতিক বিভাজন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তার কারণে এখনো ‘ভাইব’ তৈরি হয়নি। তার মতে, তফসিলের আগেই ইসির উচিত জনগণকে স্পষ্টভাবে জানানো— কী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং কোন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট করার লক্ষ্য নিয়ে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হবে— ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের যেকোনো দিন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটগ্রহণের সময়ও এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে; সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট।
এবার নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অর্ধশতাধিক দল অংশ নেবে, তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ ভোটের বাইরে। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কয়েকটি শরিক সংলাপে না থাকায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্কও জোরদার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হবে কি না— এটাই এখন মূল প্রশ্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের মতে, কমিশন প্রস্তুত হলেও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইসির অন্য চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে— একই দিনে দুই ধরনের ভোট আয়োজন, অতীতের কোনো জাতীয় নির্বাচন না আয়োজনের অভিজ্ঞতা, আদালতে চলমান রিট, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে জনঅসন্তুষ্টি এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে গভীর বিভাজন।
কমিশন সভায় ভোটের সময়সূচি, তফসিল-পূর্ব কাজ, আইন-বিধি সংস্কার, ভোটার তালিকা, প্রিজাইডিং অফিসার প্যানেল, পোস্টাল ভোটিং, আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। সিইসির ভাষণ রেকর্ড করতে বিটিভি ও বেতারে চিঠি পাঠানো হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন কমিশনার সানাউল্লাহ।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টার নির্বাচন করতে চাওয়ার খবর নিয়ে আলোচনা চলছে। কমিশনার সানাউল্লাহ ইঙ্গিত দিয়েছেন— পদে থেকে উপদেষ্টাদের নির্বাচন করা ‘সম্ভব নয়’, তবে সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানানো হবে।
সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং গণভোটের অতিরিক্ত দায়— সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মত, প্রস্তুতি এগোলেও দেশে এখনো নির্বাচনের স্বাভাবিক উত্তাপ পুরোপুরি অনুভূত হয়নি।
















