ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারের আলোকিত মঞ্চে যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হলো, তখন বাতাসে ছিল রাজনীতির তীব্র উত্তাপ, আবার সেই উত্তাপ ভেদ করে ফুটবলের চিরন্তন সুরও বাজতে শুরু করল। তিন সহ-আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর রাষ্ট্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন, আর আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি এই অনুষ্ঠানে ফিফার নতুন “শান্তি পুরস্কার” গ্রহণ করেন।
তবে রাজনীতির আলো ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছে মাঠের ভাগ্যরেখা। ৪২টি নিশ্চিত দলকে নিয়ে ১২টি গ্রুপের লড়াইয়ের চিত্র পরিষ্কার হয়ে ওঠে, যেন পৃথিবীর মানচিত্রে এক ঝাঁক নতুন যুদ্ধরেখা আঁকা হলো, কিন্তু সেই যুদ্ধ হবে পায়ে, হবে বলেই, হবে স্বপ্নের জন্য।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে আবেগের পুনর্জন্মের মতো। ২০১০ সালের স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এক সময়ের সেই বজ্রকণ্ঠ গোলের স্মৃতি যেন আবার নতুন করে জন্ম নিতে চায়।
মেক্সিকো পড়েছে শক্ত গ্রুপ ‘এ’-তে, যেখানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইউরোপের কঠিন একটি প্রতিপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রকে খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। কানাডার সামনে চ্যালেঞ্জ—সুইজারল্যান্ড, কাতার ও শক্তিশালী ইউরোপীয় দলগুলোর একটি।
চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত গ্রুপগুলো হলো:
গ্রুপ এ: মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউরোপের একজন
গ্রুপ বি: কানাডা, সুইজারল্যান্ড, কাতার ও ইউরোপের একজন
গ্রুপ সি: ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি
গ্রুপ ডি: যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে ও ইউরোপের একজন
গ্রুপ ই: জার্মানি, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও
গ্রুপ এফ: নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া ও ইউরোপের একজন
গ্রুপ জি: বেলজিয়াম, ইরান, মিশর, নিউজিল্যান্ড
গ্রুপ এইচ: স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপভার্দে
গ্রুপ আই: ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে ও বাকি অঞ্চল থেকে একজন
গ্রুপ জে: আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া, জর্ডান
গ্রুপ কে: পর্তুগাল, কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও একজন
গ্রুপ এল: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা, ঘানা
এই বিশ্বকাপে প্রথমবার ৩২ দলের নকআউট পর্ব শুরু হবে, যেখানে গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল পরের ধাপে যাবে। মোট ম্যাচ সংখ্যা হবে ৬৮টি শুধু গ্রুপপর্বেই।
যেসব গ্রুপকে সবচেয়ে কঠিন হিসেবে ধরা হচ্ছে, সেগুলো হলো এ, ডি, জি ও এল। ব্রাজিল বনাম মরক্কো, আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া—এমন বহু ম্যাচ ইতোমধ্যেই সমর্থকদের হৃদয় কাঁপাতে শুরু করেছে।
এই ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান করেন। তাকে “বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্যের জন্য বিশেষ অবদান” রাখার জন্য সম্মানিত করা হয়। মঞ্চে আবেগঘন মুহূর্তে ট্রাম্প গলায় পদক পরেন এবং বলেন, পৃথিবী এখন আরও নিরাপদ।
বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন এবং শেষ হবে ১৯ জুলাই। উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো সিটিতে, আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
এখনো সব দলের নাম চূড়ান্ত হয়নি। ইউরোপ ও আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ শেষে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চে পূর্ণ ৪৮ দলের নাম জানা যাবে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি আবেগের মহাকাব্য, যেখানে প্রতিটি গোল হবে একটি কবিতা, প্রতিটি ম্যাচ হবে এক একটি নতুন ইতিহাস।
















