Dhaka ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মূল জমি দেওয়ানি মামলায় থাকলে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:১৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

জমির প্রকৃত স্বত্ব, আইনানুগ অধিকার এবং মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে যদি কোনো উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে বিচার কার্য পরিচালনাধীন থাকে, তবে ওই বিরোধপূর্ণ জমি কোনো অবস্থাতেই অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। উপযুক্ত ও ক্ষমতাসম্পন্ন দেওয়ানি আদালতে জমির প্রকৃত স্বত্ব ও মালিকানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হওয়ার পর কেবল মামলায় বিজয়ী চূড়ান্ত পক্ষের অনুকূলেই উক্ত সম্পত্তি অবমুক্ত করতে হবে। আর সেই আইনি রায় না আসা পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কঠোরভাবে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

‘সাহাবুদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ শিরোনামের অত্যন্ত সংবেদনশীল এক মামলায় দেওয়া রায়ে এই আইনি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন হাইকোর্ট। জমির স্বত্ব ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে দায়ের করা পৃথক দুটি রিট আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করে বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ মে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২২ পৃষ্ঠার বিশদ রায়ের পূর্ণাঙ্গ সত্যায়িত অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যার মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত ৭.২৩ শতাংশ জমির মূল মালিকানা নিয়ে এই দীর্ঘ আইনি বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। জমিটির আদি মালিক ছিলেন যমুনা চামার ও গয়ানাত চামার, পরবর্তীতে হস্তান্তরের ধারাবাহিকতায় অনিল কুমার দত্ত জমিটির স্বত্ব পান। পরে তাঁর কাছ থেকে দানসূত্রে ছেলে অলোক কুমার দত্ত জমির মালিক হন। অলোক কুমার দত্ত ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই একটি নিবন্ধিত ক্রয় দলিলের মাধ্যমে রিট আবেদনকারী সাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে জমিটি বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। কিন্তু অপর বিবাদী মো. জাহিদুর রহমান দাবি করেন, তার আগে ১৯৯৬ সালের ২৩ মে অলোক দত্ত তার সঙ্গে বিক্রির বায়নাপত্র করেছিলেন। পরবর্তীতে চুক্তি বাস্তবায়নের মামলায় জাহিদুর রহমান একতরফা ডিগ্রি পান ও দলিলের অধিকারী হন। এই নিয়ে জেলা জজ আদালত ও হাইকোর্টে একাধিক সিভিল রিভিশন ও আপিল মামলা গড়ায়।

মামলার রুল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলেন যে, অলোক কুমার দত্ত ও জাহিদুর রহমানের মধ্যে সম্পাদিত বায়নাপত্রের ভিত্তিতে করা দেওয়ানি মামলার রায় ও ডিক্রি সম্পর্কিত মূল বিরোধের এখনো চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি ঘটেনি। একই সঙ্গে অলোক দত্তের কাছ থেকে সাহাবুদ্দিন আহমেদের জমি কেনার নিবন্ধিত দলিলের সত্যতা ও আইনি বৈধতা নিয়ে গভীর জটিলতা রয়েছে, যা সংক্ষিপ্ত রিট বিচারিক কার্যক্রমে কখনোই মীমাংসা করা সম্ভব নয়।

এ কারণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন সিভিল রিভিশনসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত আইনি লড়াইতে যে পক্ষের অনুকূলে বিরোধপূর্ণ জমির চূড়ান্ত স্বত্ব ও মালিকানা আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, কেবল সেই বিজয়ী পক্ষের অনুকূলেই এই অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত করতে হবে। আর চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে জমির ওপর কঠোরভাবে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মূল জমি দেওয়ানি মামলায় থাকলে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:১৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জমির প্রকৃত স্বত্ব, আইনানুগ অধিকার এবং মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে যদি কোনো উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে বিচার কার্য পরিচালনাধীন থাকে, তবে ওই বিরোধপূর্ণ জমি কোনো অবস্থাতেই অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। উপযুক্ত ও ক্ষমতাসম্পন্ন দেওয়ানি আদালতে জমির প্রকৃত স্বত্ব ও মালিকানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হওয়ার পর কেবল মামলায় বিজয়ী চূড়ান্ত পক্ষের অনুকূলেই উক্ত সম্পত্তি অবমুক্ত করতে হবে। আর সেই আইনি রায় না আসা পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কঠোরভাবে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

‘সাহাবুদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ শিরোনামের অত্যন্ত সংবেদনশীল এক মামলায় দেওয়া রায়ে এই আইনি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন হাইকোর্ট। জমির স্বত্ব ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে দায়ের করা পৃথক দুটি রিট আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করে বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ মে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২২ পৃষ্ঠার বিশদ রায়ের পূর্ণাঙ্গ সত্যায়িত অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যার মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত ৭.২৩ শতাংশ জমির মূল মালিকানা নিয়ে এই দীর্ঘ আইনি বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। জমিটির আদি মালিক ছিলেন যমুনা চামার ও গয়ানাত চামার, পরবর্তীতে হস্তান্তরের ধারাবাহিকতায় অনিল কুমার দত্ত জমিটির স্বত্ব পান। পরে তাঁর কাছ থেকে দানসূত্রে ছেলে অলোক কুমার দত্ত জমির মালিক হন। অলোক কুমার দত্ত ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই একটি নিবন্ধিত ক্রয় দলিলের মাধ্যমে রিট আবেদনকারী সাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে জমিটি বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। কিন্তু অপর বিবাদী মো. জাহিদুর রহমান দাবি করেন, তার আগে ১৯৯৬ সালের ২৩ মে অলোক দত্ত তার সঙ্গে বিক্রির বায়নাপত্র করেছিলেন। পরবর্তীতে চুক্তি বাস্তবায়নের মামলায় জাহিদুর রহমান একতরফা ডিগ্রি পান ও দলিলের অধিকারী হন। এই নিয়ে জেলা জজ আদালত ও হাইকোর্টে একাধিক সিভিল রিভিশন ও আপিল মামলা গড়ায়।

মামলার রুল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলেন যে, অলোক কুমার দত্ত ও জাহিদুর রহমানের মধ্যে সম্পাদিত বায়নাপত্রের ভিত্তিতে করা দেওয়ানি মামলার রায় ও ডিক্রি সম্পর্কিত মূল বিরোধের এখনো চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি ঘটেনি। একই সঙ্গে অলোক দত্তের কাছ থেকে সাহাবুদ্দিন আহমেদের জমি কেনার নিবন্ধিত দলিলের সত্যতা ও আইনি বৈধতা নিয়ে গভীর জটিলতা রয়েছে, যা সংক্ষিপ্ত রিট বিচারিক কার্যক্রমে কখনোই মীমাংসা করা সম্ভব নয়।

এ কারণে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন সিভিল রিভিশনসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত আইনি লড়াইতে যে পক্ষের অনুকূলে বিরোধপূর্ণ জমির চূড়ান্ত স্বত্ব ও মালিকানা আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, কেবল সেই বিজয়ী পক্ষের অনুকূলেই এই অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত করতে হবে। আর চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে জমির ওপর কঠোরভাবে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।