মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত সমর্থন পেয়ে টেনেসির বিশেষ কংগ্রেশনাল নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ম্যাট ভ্যান এপস শেষ মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে নিলেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আফটিন বেনের কাছ থেকে মাত্র কয়েক পয়েন্টের ব্যবধানে এ জয় রিপাবলিকানদের জন্য যেমন স্বস্তি, তেমনি আগামী নির্বাচনের আগে এক অদৃশ্য ঝড়ের ইঙ্গিতও রেখে গেল।
এই আসনটি খালি হয়েছিল সাবেক প্রতিনিধি মার্ক গ্রিনের পদত্যাগের পর। দীর্ঘদিন ধরে এটি রিপাবলিকানদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে ২০২০ ও ২০২৪ সালে ট্রাম্প বিশাল ব্যবধানে জিতেছিলেন। কিন্তু এবার বিশেষ নির্বাচনের অদ্ভুত অনিশ্চয়তা ফলাফলকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুলিয়ে রেখেছিল।
প্রায় সব ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ভ্যান এপস পেয়েছেন ৫৩.৯ শতাংশ ভোট, আর বেন পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ। বিজয় ঘোষণার পর ভ্যান এপস বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি প্রচারণা ছিল না—এটি ছিল টেনেসির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণের মুহূর্ত। তিনি জানান, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে।
টেনেসির সপ্তম কংগ্রেশনাল জেলা—যা ন্যাশভিলের একাংশসহ বৃহৎ মধ্যাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও দৃঢ়ভাবে রিপাবলিকানদের দখলে এসেছে। ২০২২ সালে নতুনভাবে আঁকা নির্বাচনী মানচিত্র ন্যাশভিলের ডেমোক্র্যাট ভোটকে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে শহরের তরুণ, কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রগতিশীল ভোটারদের শক্তি ভেঙে পড়ে। এই প্রেক্ষাপট রিপাবলিকানদের জন্য সুবিধা তৈরি করলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতটাই ঘনিষ্ঠ হবে তা আগে ভাবা হয়নি।
ডেমোক্র্যাটিক শিবিরে আশা ছিল—সাম্প্রতিক নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া ও নিউ ইয়র্ক সিটির নির্বাচনে তাদের বড় জয় টেনেসিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটের রাতে বেন বলেন, তাঁরা জায়গা মতো ভালো করছে, আর যেখানে হারছে, সেখানেও ব্যবধান কম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটের ঢেউ ভ্যান এপসের দিকেই ফিরে যায়।
এই নির্বাচনে জাতীয় রিপাবলিকান গোষ্ঠীগুলোর বিনিয়োগ ছিল উল্লেখযোগ্য। ট্রাম্পের নিজস্ব পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি এই প্রচারণায় এক মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন পর্যন্ত নেমে এসেছিলেন প্রচারণায়, আর ট্রাম্প নিজে ফোনে সমাবেশে ভাষণ দেন। ভ্যান এপস তাঁর বিজয় ভাষণে বলেন, “ট্রাম্পের সঙ্গে দৌড়ালে জয়ের পথ খুলে যায়। তিনি আমাদের পাশে ছিলেন, তাই আমরা জিতেছি।”
কে এই ভ্যান এপস? তিনি ওয়েস্ট পয়েন্টের গ্র্যাজুয়েট, সজ্জিত হেলিকপ্টার পাইলট এবং টেনেসি আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি কাজ করেছেন। তিনি নিজেকে কঠোর আর্থিক রক্ষণশীল হিসেবে উল্লেখ করেন—কর কমানো, মেডিকেড সংস্কার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ করবেন, দেয়াল নির্মাণ সম্পন্ন করবেন এবং ‘ওপেন বর্ডার’ নীতিকে থামাবেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান এপস স্পষ্টভাবেই ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভ্যান এপস জিতলেও এটি রিপাবলিকানদের জন্য সতর্ক ঘণ্টা। কারণ ডেমোক্র্যাটরা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো করেছে। এই ফলাফল অনেকের চোখে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থনের এক নির্দেশক—যেখানে তাঁর অনুমোদন হার মাত্র ৩৬ শতাংশ।
টেনেসির রাত তাই শুধু একটি বিজয়ের রাত নয়—এটি এক নতুন রাজনৈতিক যুদ্ধের সুরও বয়ে আনছে, যেখানে প্রতিটি ভোটই হয়ে উঠছে ভবিষ্যতের গল্প।
















