বারবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় মুখ ফিরিয়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব, গভীর সংকটে ভারতীয় পেঁয়াজ ব্যবসা
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকছে। রপ্তানিতে ঘনঘন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ভারতই এখন ক্রেতা হারানোর দায়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের পেঁয়াজ বাজারে নেমে এসেছে বড়ধরনের ধস। সবচেয়ে বড় দুই ক্রেতা—বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—এখন ভারতীয় পেঁয়াজ থেকে মুখ ফিরিয়ে পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকছে। ফলে গভীর বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ভারতের পেঁয়াজ চাষি ও রপ্তানিকারকরা।
ভারতীয় অর্থনৈতিক দৈনিক ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, রপ্তানি নীতি নিয়ে অস্থিরতা এবং বিনা নোটিশে নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে ভারতই নিজের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। স্থানীয় বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের কথা বলে একাধিকবার রপ্তানি বন্ধ করায় ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজে নিয়েছে।
বাংলাদেশ আগে ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির তিন-চতুর্থাংশের প্রধান গন্তব্য ছিল। কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে—যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২৪ হাজার টন। বাংলাদেশে দাম তিনগুণ বাড়লেও ভারত থেকে আমদানি বাড়ানো হয়নি; বরং পাকিস্তান ও চীনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, “রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে ছিলাম না। তখনই ক্রেতারা বিকল্প খুঁজে নেয়। এখন আর গুণমান নয়—তারা দেখছে কে সবচেয়ে কম দামে দিতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চলে গেছে; দেশগুলো এখন সেই বীজ ব্যবহার করে নিজেদের পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে ভারতের বাজার আরও সংকুচিত হচ্ছে।
২০১৯ ও ২০২০ সালে টানা একাধিকবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এর জেরে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে অসন্তোষ জানায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্থানীয় কৃষক রক্ষার কথা বলে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কার্যত বন্ধ করে দেয়।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, “আমরা শুধু ক্রেতা হারাইনি; তারা এখন আমাদের বীজ ব্যবহার করে নিজেদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। বাজারে আমাদের আধিপত্য দ্রুত কমছে।”
ভারতের পেঁয়াজ শিল্প এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি—ঘনঘন রপ্তানি নীতি পরিবর্তনের ফলে যে বাজার তারা নিজেরাই হাতছাড়া করেছে, সেটি ফিরে পাওয়া এখন কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















