কিরগিজস্তানে আগাম সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের ঘনিষ্ঠদেরই বড় জয়ের পথে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার অনুষ্ঠিত এই ভোটে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল বা সংগঠিত বিরোধী গোষ্ঠী নেই, ফলে নির্বাচনটি জাপারভের ক্ষমতাকে আরও মজবুত করার সুযোগ তৈরি করেছে।
২০২০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জাপারভ দেশের রাজনীতি, গণমাধ্যম ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছেন। মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত কিরগিজস্তানে এর আগে ২০০৫, ২০১০ ও ২০২০ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে তিনবার সরকার পতন ঘটেছিল।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে, কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সংসদ নিজেই ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ পদক্ষেপও জাপারভের দলের সুবিধাই বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জাপারভের ঘনিষ্ঠ ও উপপ্রধানমন্ত্রী এদিল বাইসালভ জানান, দেশের আগের রাজনৈতিক অস্থিরতা জনগণের জীবনমান ও স্থিতিশীলতা উন্নত করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই পশ্চিমা ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থা “কাজ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না”। তার দাবি, বিদেশি সামাজিকমাধ্যমের উসকানি ঠেকাতেই স্বাধীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
এদিকে রাজধানী বিশকেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিরোধীদলীয় প্রার্থী বলত ইব্রাগিমভের ধারণা, পার্লামেন্টের ৮০ শতাংশই জাপারভপন্থীরা আবারও নির্বাচিত হবে।
জাপারভ পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধকরণ ও মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে রক্ষণশীলদের সমর্থন পেয়েছেন। পাশাপাশি দেশটির দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে, যদিও মুদ্রাস্ফীতি ও বিদ্যুৎ সংকট সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ায় সরাসরি পণ্য পাঠানো কঠিন হওয়ায় কিরগিজস্তান রাশিয়ার জন্য এক ধরনের বিকল্প বাণিজ্য পথ হয়ে উঠেছে। এ কারণে দেশটির অর্থনীতিতে বড় প্রবাহ তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো কয়েকটি কিরগিজ ব্যাংক ও ক্রিপ্টো কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে জাপারভ রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছেন। গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশকেক সফর করেন, আর তখন শহরের বিভিন্ন বিলবোর্ডে পুতিনের ছবি টানানো হয়।
















