ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার আঘাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়তে থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (DMC) জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং এখনো ২২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ।
স্থানীয় গণমাধ্যম ডেইলি মিররের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন নৌবাহিনীর পাঁচ সদস্য, যারা চালাই লেগুনে একটি সাব-স্টেশনে প্রবল স্রোত আটকাতে গিয়ে শেষবার দেখা গিয়েছিলেন।
ঘূর্ণিঝড়ে দেশজুড়ে প্রায় ১৫,০০০ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং অন্তত ৪৪,০০০ মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় সাম্মানথুরাই থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, অনেক মহল্লা পুরোপুরি কাদার নিচে চাপা পড়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র যত স্পষ্ট হচ্ছে, ততই হতাশা বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কিছু এলাকার হালনাগাদ তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না।
অবিরাম বৃষ্টিতে সদ্য রোপণ করা ধানক্ষেত ডুবে গেছে, আর কলম্বোর উত্তরাংশে কেলানি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। DMC জানায়, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ছে।
শনিবার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছেন। ভারত প্রথমেই সহায়তা পাঠিয়েছে—ত্রাণসামগ্রীসহ দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য। জাপানও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মূল্যায়নে একটি দল পাঠাচ্ছে।
দুর্যোগ কেন্দ্র আরও জানায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় প্রদেশের বেশ কয়েকটি সড়ক এখনো অচল। দেশজুড়ে ২০,০০০ এর বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১,২২,০০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বন্যায় বাস্তুচ্যুত প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎবিভ্রাট ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়ে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগও বহু স্থানে বিচ্ছিন্ন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ত্রাণ–উদ্ধার কাজে যুক্ত রয়েছে।
২০১৭ সালের পর এটিই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তার আগের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালে, যখন ২৫৪ জন মারা যান।
















