ভেনেজুয়েলার আকাশসীমাকে “সম্পূর্ণভাবে বন্ধ” ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শনিবার ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা “ঔপনিবেশিক হুমকি” বলে নিন্দা জানিয়েছে।
ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “সব এয়ারলাইন, পাইলট, মাদক পাচারকারী ও মানবপাচারকারীদের উদ্দেশে বলছি—ভেনেজুয়েলার ওপরের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।” এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ককে আরও টানটান করে তুলেছে।
ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা মাদক পাচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো সরকারকে সরাতে ভিত্তি তৈরি করছে। গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে এবং মাদকবাহী দাবি করে জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যা জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের ভাষায় “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে বিবেচিত।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে মাদুরোর গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য এবং মাদুরোর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা “কার্টেল দে লস সোলেস”–কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুমকিতে ভেনেজুয়েলা ভয় পাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপের জন্য অজুহাত তৈরি করছে।
এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি মাদুরোর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন এবং দুই নেতার মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের কথাও তুলেছেন, যদিও এখনো কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণার মতো পদক্ষেপ সাধারণ ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে। এতে ওষুধ, খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হবে এবং মানুষের জরুরি ভ্রমণও অসম্ভব হয়ে উঠবে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভেনেজুয়েলার ওপর “পোড়া-মাটি নীতি”—যা মূলত সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।
ভেনেজুয়েলার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমর ফারিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনীতি ধ্বংস করার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার আরেকটি ধাপ। তিনি বলেন, “এটি সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং জনগণের বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসন। আমরা সেই মূল্যই চুকাচ্ছি।”
















