জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট একই দিনে আয়োজনের খসড়া অনুমোদন
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোট একই দিনে হবে। রঙিন ব্যালট পেপার, চার শ্রেণির নাগরিকের জন্য পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা এবং আলাদা ব্যালট পেপারে চারটি বিষয়ের ওপর গণভোট নেওয়ার বিধান খসড়া অধ্যাদেশে অনুমোদন পেয়েছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই বিধান রেখে গণভোট অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। পৃথক ব্যালট পেপারে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এবং ব্যালট পেপার হবে রঙিন। প্রবাসীসহ মোট চার শ্রেণির নাগরিকের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগও এতে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। পরে ফরেইন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আইন উপদেষ্টা জানান, গণভোটকে সার্বিকভাবে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে আলাদা রঙিন ব্যালট পেপারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জুলাই সনদের আইনি কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করবে। তিনি বলেন, গণভোট যেন দেশ-বিদেশের সব ভোটারের কাছে সহজলভ্য হয়, সে জন্য পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়, যা পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জারি করেন। ওই আদেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কাঠামোর সংস্কার প্রক্রিয়া এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সরকার আশা করছে, এই নতুন ব্যবস্থায় ভোটারদের অংশগ্রহণ ও গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
















