প্যারিসের আকাশে ইতিহাসের লুকানো ধূলিকণা আবারও ঘূর্ণি তুলে নাচছে। লুভর জাদুঘরের সেই সাহসী রত্নচুরির ঘটনার তদন্তে এবার চতুর্থ সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে ফ্রান্স। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আগেও ছয় বার দণ্ডিত হয়েছিলেন—যেন অপরাধের পথে হাঁটতে হাঁটতেই তার জীবন খোদাই হয়েছে।
তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর লর বেকু ঘোষণা করেন, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগের অপরাধগুলোর মধ্যে ছিল দেহব্যবসা পরিচালনা, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো এবং চোরাই মাল গ্রহণ। তার অতীত যেন অন্ধকারের বহু স্তর মেখে আজকের এই মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর, দুঃসাহসী চারজনের একটি দল মধ্যদুপুরের আলোকে ভেদ করে ঢুকে পড়েছিল লুভর জাদুঘরে। মাত্র সাত মিনিটের ঝড়ো অভিযানে প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলারের দামী রত্ন লুট করে স্কুটারে চেপে ছায়ার মতো মিলিয়ে যায় তারা। বিশ্ববিখ্যাত অ্যাপোলো গ্যালারির আলোকময় স্থিরতা ভেঙে সেদিন ধাতুর ঘর্ষণের শব্দে কেঁপে উঠেছিল জাদুঘরের স্তব্ধ প্রাচীর।
চার সন্দেহভাজনই এখন গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত চুরি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ এখনো নিখোঁজ সেই মহামূল্য রত্নগুলো—যেন ইতিহাস নিজের অমূল্য অধ্যায় আবারো ছায়ার ভেতর লুকিয়ে রেখেছে।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের ল্যাভাল শহরের একটি নির্মাণস্থান থেকে শেষ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিরা—৩৫, ৩৭ ও ৩৯ বছর বয়সী তিনজন—আগেই ধরা পড়েছিলেন। ধারণা করা হয়, তাদের মধ্যে দুজন জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন এবং দুজন বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন পাহারায়। পরে তারা একসঙ্গে পালিয়ে যায়।
এদের একজনের ৩৮ বছর বয়সী নারী সঙ্গীকেও সহযোগিতার সন্দেহে আটক করা হয়েছিল, তবে পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
চুরি হওয়া রত্নের সন্ধানে গোটা দেশের নজর এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে, কারণ কিভাবে মাত্র কিছু মিনিটে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত জাদুঘর ভেদ করা সম্ভব—তা নিয়ে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।
জাদুঘরের ফুটেজ দেখায়, চোরেরা একটি মালবাহী লিফট ব্যবহার করে জানালার কাছে পৌঁছায় এবং গ্রাইন্ডার দিয়ে ভেঙে ফেলে মূল্যবান রত্নের কাচের বাক্স। যদিও চুরির পর কিছু সময় পরেই নেপোলিয়ন তৃতীয়ের স্ত্রী এমপ্রেস ইউজেনির পান্না ও হীরকখচিত রাজমুকুটটি জাদুঘরের বাইরে উদ্ধার করা হয়—শিল্প ও ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে।
অবশেষে ধোঁয়াশা আরও ঘন হলেও, তদন্ত এগিয়ে চলেছে—যেন লুভরের দেয়ালে খোদাই থাকা পুরোনো গল্পের মতোই, সত্যও একদিন উন্মোচিত হবেই।
















