ট্রাইব্যুনালে আস্থা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ফজলুর রহমানের পক্ষে দাঁড়ানোর ঘোষণা
টিএফআই ও জেআইসি-তে গুম ও নির্যাতনের দুই মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শেখ হাসিনার পক্ষে লড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। ট্রাইব্যুনালে আস্থা না থাকা এবং ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘আদালত অবমাননা’ মামলার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
টিএফআই ও জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। বৃহস্পতিবার ফেইসবুক লাইভে তিনি জানিয়ে দেন, শেখ হাসিনার পক্ষে আর আদালতে দাঁড়াতে চান না।
এর আগে ২৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বীর মুক্তিযোদ্ধা পান্নার আবেদন আমলে নিয়ে তাকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তবে তিনি বলেন, এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র পাননি, আর পেলেও তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লাইভে জেড আই খান পান্না জানান, শেখ হাসিনা নিজে এ আদালতের ওপর আস্থা রাখছেন না—এ তথ্য তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানকে ট্রাইব্যুনাল ‘আদালত অবমাননা’র অভিযোগে অভিযুক্ত করায় তিনি এটিকে নৈতিকতার প্রশ্ন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, একজন সহযোদ্ধা ও সহকর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলায় তিনি তাঁর পক্ষে ডিফেন্ড করতে চান।
তিনি বলেন, যে আদালতের ওপর বঙ্গবন্ধু কন্যার আস্থা নেই, সে আদালতে দাঁড়িয়ে তাকে ডিফেন্ড করা তার কাছে অনুচিত এবং অনৈতিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি আইনজীবী হিসেবে আদালতে নির্বিঘ্নে কাজ করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেখানে কারও হয়ে লড়াই করে কোনো ফল পাওয়া যায় না।
টিএফআই সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। একইভাবে জেআইসিতে আটকে রেখে নির্যাতনের আরেক মামলায়ও এই আসামিরা রয়েছেন।
জেড আই খান পান্না বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিগত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনার শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনাকে ঘিরে মতামত দিয়েছে।সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালের ওপর আস্থা নিরূপণ করা জনগণের দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, আইনজীবী হিসেবে যথাযথভাবে কাজ করতে না পারলে এমন দায়িত্ব গ্রহণ অর্থহীন।
















