কয়েকজনের খরচ ৩০–৩৫ লাখ টাকা, ব্রাজিল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ—আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত পাঠাল মার্কিন কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে আরও ৩৯ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। ব্র্যাক জানিয়েছে, ফেরত আসা অনেকে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আরও ৩৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ভোরে একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ব্র্যাক তাদের প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করে।
ব্র্যাক জানায়, চলতি বছর এ নিয়ে মোট ১৮৭ জন বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠিয়েছে। যদিও আগের ফেরত পাঠানোদের হাতে হাতকড়া ও পায়ে শেকল পরানো হয়েছিল, কিন্তু সর্বশেষ ফ্লাইটে আসা ৩৯ জনের ক্ষেত্রে তা হয়নি।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ফেরত আসা ব্যক্তিদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছিলেন। অধিকাংশই বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়ে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, এভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে গিয়ে পরে অবৈধ হতে বাধ্য হওয়া দুঃখজনক এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ৩৯ জনের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪ জন ব্রাজিল থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে দুইজন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, তারা দেশে বৈধভাবে থাকার যোগ্য নন, ফলে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ জনই নোয়াখালীর। এছাড়া কুমিল্লা, সিলেট, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের দুজন করে এবং চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর একজন করে রয়েছেন।
এর আগে ৮ জুন একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়। মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে আরও অন্তত ৩৪ জন দেশে ফেরত আসেন। ২০২৪ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের অগাস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা ২২০ ছাড়িয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হলে কিংবা বৈধ কাগজপত্র না থাকলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে তাদের ফেরত পাঠায়। সাম্প্রতিক সময়ে এসব প্রত্যাবাসন দ্রুততর হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে।
















