গিনিপি-বিসাউয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে দেশটির একদল সেনা কর্মকর্তা নিজেদের হাতে ক্ষমতা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে জানায় যে তারা “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” গ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
নিজেদের “ব্যবস্থাপনা পুনঃস্থাপনে উচ্চ সামরিক কমান্ড” বলে পরিচয় দিয়ে সেনা কর্মকর্তারা জানায় যে দেশটির সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হবে এবং রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।
ঘোষণার আগে রাজধানী বিসাউয়ে নির্বাচন কমিশন ভবন, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশপাশে টানা গুলির শব্দ শোনা যায়।
রবিবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বৃহস্পতিবার প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। এই নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালো এবং প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দো দিয়াস দুইজনই আগেভাগে নিজেদের বিজয়ী দাবি করেন।
ফ্রান্স২৪–কে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে এমবালো বলেন, “আমি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছি।” পরে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, তাকে সামরিক সদর দপ্তরে আটক রাখা হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল পিএআইজিসি–র নেতা ডোমিঙ্গোস সিমোএস পেরেইরাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনীর এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট গার্ডের প্রধান ডেনিস এন’কানহা—যিনি রাষ্ট্রপতিকে রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন।
গিনিপি-বিসাউ স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার সামরিক অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানচেষ্টা দেখেছে। এবারের নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন প্রশ্ন তোলে, বিশেষ করে পিএআইজিসি দলকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার পর।
উভয় প্রার্থীই কোনো প্রমাণ ছাড়াই এক দফায় নির্বাচনে জয়ের দাবি করেন। এমবালো–র প্রচার শিবির জানায় যে দ্বিতীয় দফার প্রয়োজন হবে না, অন্যদিকে দিয়াসও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
আঞ্চলিক সংস্থা ইসিওয়াস ও আফ্রিকান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল সেনা হস্তক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, দুই প্রধান প্রার্থীই তাদের কাছে জনগণের রায় মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
তারা আটক রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দিয়ে সংবিধানিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান এবং সব পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেন।
এদিকে পর্তুগাল সরকারও সংঘাত এড়াতে সকল পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
















