চীন সতর্ক করেছে যে তাইওয়ানের পক্ষে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ হলে তা “চূর্ণ” করে দেওয়া হবে, বিশেষত জাপানের নিকটবর্তী দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা ঘিরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর।
বুধবার বেইজিংয়ে সংবাদ সম্মেলনে চীনের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের মুখপাত্র পেং চিনগেন বলেন, “জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আমাদের দৃঢ় ইচ্ছা, শক্তিশালী সংকল্প এবং সক্ষমতা রয়েছে। আমরা সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ ভেঙে দেব।”
তিনি জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন পরিকল্পনাকে “চরম বিপজ্জনক” বলে দাবি করেন এবং বলেন, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়ানো ও সামরিক সংঘাত উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি রবিবার জানান, দেশটির পশ্চিমতম দ্বীপ ইয়োনাগুনিতে মাঝারি-পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে মারার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হবে, যা তাইওয়ান উপকূল থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে। কোইজুমি বলেন, এটি জাপানের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি কমাবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানের এই সিদ্ধান্তকে “উসকানিমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কেবল প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং অন্য কোনো দেশকে আক্রমণ করার জন্য নয়।
এদিকে তাইওয়ান জাপানের বাড়তি সামরিক উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি তাইওয়ান প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক হবে।
বুধবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে ঘোষণা করেন, চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ৪০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট নেওয়া হবে। এই বাজেটের মাধ্যমে নির্ভুল হামলা সক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র কেনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।
চীন এসব প্রতিরক্ষা ব্যয়কে “অপচয়” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এ ধরনের অস্ত্র কেনা শুধু তাইওয়ানকে “বিপদের দিকে ঠেলে দেবে”।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই জাপান জানিয়েছে, সোমবার তারা ইয়োনাগুনির আকাশসীমায় সন্দেহভাজন একটি চীনা ড্রোন শনাক্ত করেছে, যার পর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়।
সম্প্রতি জাপান–চীন সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটেছে নতুন জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি ইঙ্গিত দেন যে তাইওয়ানের ওপর চীনা হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তার মন্তব্যে বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়ে চীনা নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
টোকিও জানিয়েছে, তারা সব স্তরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে প্রস্তুত থাকলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
















